মোংলা বন্দরে ড্রেজিং শেষে চীনে ফিরছে ড্রেজারগুলো
বাগেরহাট প্রতিনিধি: মোংলা বন্দরে ড্রেজিং শেষে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুটি ড্রেজার নিজ দেশ চীনে ফিরে যাচ্ছে। ১৩৮ মিটার লম্বা এবং ২৮ মিটার প্রস্থের সাকশান ড্রেজারগুলো ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশে আসতে হয়েছে আরেক সর্ববৃহৎ অর্ধনিমজ্জিত জাহাজ ব্লু মার্লিনকে। স্যালভেজ প্রতিষ্ঠান প্রান্তিকের তিনটি টাগবোটের সহযোগিতায় ড্রেজার দুটিকে ব্লু মার্লিনে তুলে দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে ৩৪ নটিক্যাল মাইল দূরে আকরাম পয়েন্টে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। এখানেই আপাতত নোঙর করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বোসখালিসের মালিকানাধীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্ধনিমজ্জিত জাহাজ ব্লু মার্লিন। মূলত সাগরে বড় ধরনের যন্ত্রপাতি লোড কিংবা তুলে নেয়ার জন্য বিশেষ কৌশলে এসব জাহাজের অর্ধেকের বেশি ডুবিয়ে রাখতে হয়।
সব ধরনের জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে মোংলা বন্দরের বেস ক্রিক থেকে দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিয়ে আকরাম পয়েন্টে নিয়ে আসা হয় চীনের মালিকানাধীন পাখাবিহীন কাটার সেকশন ড্রেজার শিন হাই স্যু ও শিন হাইটেংকে। স্যালভেজ প্রতিষ্ঠান প্রান্তিকের টাগবোট প্রান্তিক সরোয়ার, বর্ষণ এবং সিগাল প্রাইডের সহযোগিতায় ড্রেজারগুলো তুলে দেয়া হয় আগে থেকে নোঙর করে রাখা ব্লু মার্লিনে।
এ বিষয়ে প্রান্তিক গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘মেরিন ইমারজেন্সি ও ট্রান্সপোর্টেশনের ক্ষেত্রে প্রান্তিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। যেখানে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ড্রেজারকে পরিচালনা করতে পারছি।’
গত কয়েক দিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দুটি ড্রেজারকে আরেকটি সর্ববৃহৎ জাহাজের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর এ ঝুঁকির্পূণ মিশন চলছিল। এ জন্য বিদেশি তিনজন বিশেষজ্ঞ পাইলটের পাশাপাশি এ দেশের অভিজ্ঞ পাইলট এবং টাগবোট মাস্টার কাজ করেন। তবে দেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অন্তত ২০ কোটি টাকা রক্ষা পেয়েছে বলে দাবি স্যালভেজ প্রতিষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, সাড়ে ৯ মিটার থেকে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ প্রবেশের জন্য দেড় বছরের বেশি সময় ধরে মোংলা বন্দরে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। এ ড্রেজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশের খননকাজের জন্য ১৩৮ মিটার লম্বা এবং ২৮ মিটার প্রস্থের ড্রেজারগুলো আনা হয়েছিল।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম//



