বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন এবং ঢাকায় দূতাবাস স্থাপন করতে চায় উজবেকিস্তান। এছাড়া পর্যটন, তৈরি পোশাক, আইটি, ওষুধ শিল্প এবং বন্দর ব্যবহার বিষয়ে আলোচনা হয় দুদেশের। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান।
গতকাল রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশেদ কাদজায়েভ ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং উজবেকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী জামশেদ কাদজায়েভ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, উজবেকিস্তানের বোখারায় মুসলিম পীর ও মনীষীদের সমাধি রয়েছে। যেটা আমাদের এখানকার মানুষের সঙ্গে একটা মেলবন্ধন তৈরি করেছে। মানুষ সেখানে যেতে চায়। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই। তাই বিমান চালুর বিষয়ে তারা আগ্রহী। আমরাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তাদের কোনো সমুদ্র নেই, আমরাও চাই তাদের পর্যটকরা আমাদের কক্সবাজারে আসুক। বর্তমানে উজবেকিস্তান যেতে ১৭-১৮ ঘণ্টা লেগে যায়। বিমান চালু হলে ৪ বা সাড়ে ৪ ঘণ্টায় যাওয়া যাবে। এটি ইউরোপ-আমেরিকা যাওয়ার জন্য একটি গেটওয়ে হতে পারে।
একই সময়ে উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশেদ কাদজায়েভের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উজবেকিস্তানের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা দেশটির সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়াতে চাই। উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের দেশের নাগরিকদের ই-ভিসা দেবে। এছাড়া আশা করছি, ঢাকা-তাসখন্দের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চালু হবে। ঢাকায় উজবেকিস্তানের কোনো দূতাবাস নেই। দূতাবাস না খুললেও তারা যেন এখানে একটি কনস্যুলেট অফিস খোলে সে জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। তারা কৃষি খাতে অনেক ভালো। তাদের দেশে অনেক গ্যাস আছে, সার উৎপাদনেও অনেক এগিয়ে। আমরা কীভাবে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারি সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় সালমান এফ রহমান বলেন, উজবেকিস্তানের কাছে তুলা আছে। তাদের কাছে কাঁচামাল আছে, আমাদের কাছে প্রযুক্তি আছে, কারখানা আছে। দুটির সমন্বয় ঘটানো গেলে বেশ সুবিধা হবে। তাছাড়া তাদের ওষুধ খাত এখনো খুব একটা উন্নয়ন হয়নি। তাই সেখানে আমাদের জন্য ভালো একটি সুযোগ রয়েছে। সেখানে আমরা সরাসরি ওষুধ রফতানি করতে পারি অথবা সেখানে কারখানা করে আমাদের লোকজন নিয়ে গিয়ে উৎপাদন করা যায়। এছাড়া চামড়া খাতেও একটা সুযোগ আছে। সেটি নিয়েও আমরা কথা বলেছি। তাদের কোনো সমুদ্র নেই। ‘ল্যান্ড লক’ দেশ। দুদেশের মধ্যে পর্যটন খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা চালু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না। এটি বিশ্বব্যাপী একটা সমস্যা। অর্থনীতির সাইজের তুলনায় আমাদের রিজার্ভ ভালো ছিল। আমাদের যে হারে রিজার্ভ কমেছে, ভারতে তার চেয়ে বেশি কমেছে। এখন ফেডারেল রিজার্ভ সুদ হার বাড়িয়েছে। তারা সেটি আরো বাড়াবে। এখন আন্তর্জাতিকভাবে ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। তখন অনেকে ডলারে বিনিয়োগ করতে চায়। ফলে স্থানীয় মুদ্রার সঙ্গে একটা তফাৎ তৈরি হয়। এটি কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা বলা যাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা মনে করেন, এ বছরের শেষের দিকে এ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে কোনো সমস্যা দেখলে প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। তারই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আমরা এখনো ঋণ নেব কিনা সেটি নিশ্চিত নই, তবে আমরা প্রক্রিয়া চালু করেছি। তারা কী শর্ত দেয়, আমাদের কতটুকু প্রয়োজন, আদৌ লাগবে কিনা, সেসব হিসাব করে দেখা হচ্ছে। তবে আইএমএফ ইতিবাচক, তারা ঋণ দিতে চায়।
সালমান এফ রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে গোটা বিশ্বেই এখন একই অবস্থা। আমাদের পুঁজিবাজারে সে রকম ডেপথ নেই। যত ম্যাচিউর মার্কেট আছে ওয়ার্ল্ডে সেখানে দেখা যায় ৮০ শতাংশ হয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আর ২০ শতাংশ হয় খুচরা বিনিয়োগ। আমাদের এখানে তার উল্টো। এখানে ২০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আর ৮০ শতাংশ খুচরা বিনিয়োগ। ফলে আমাদের এখানে ডেপথ নেই। তাই ‘ফ্লোর প্রাইস’ দিতে হয়। খুচরা বিনিয়োগকারীরা তাড়াতাড়ি হতাশ হয়, আর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেয়।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, উজবেকিস্তানের সঙ্গে আইটি খাতে হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ হতে পারে। ওদের শিক্ষা খাতে কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করা যায়, আমরা কীভাবে সেখানে যুক্ত হতে পারি সেসব বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমাদের যেমন অনেক গ্রাম রয়েছে, উজবেকিস্তানেরও সেটি আছে। আমাদের ডিজিটাল গ্রামের ধারণাটা তাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। সেখানে কীভাবে তাদের গ্রামের উন্নয়নে আমাদের নতুন স্টার্টআপগুলো যুক্ত হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করছি।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



