akhaura

আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানিতে রাজস্ব আয় সাড়ে ৭ কোটি টাকা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। এতে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে এ বন্দরের ব্যবসায়ীদের মাঝে। আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২ বছরের মন্দাবস্থা কাটিয়ে উঠছেন । 

এদিকে গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে ৬৮০ কোটি, ১১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৪ টাকার পণ্য রফতানি হয়েছে। অপর দিকে আমদানি হয়েছে ২৮৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৮ টাকার পণ্য। আমদানি থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৯১৯ টাকা। 

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে ব্যবসা বাণিজ্য আরো বাড়বে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। অপরদিকে রফতানি আরো বাড়তো কিন্তু ত্রিপুরার সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের ভালো যোগাযোগ এবং ডলারের দর বৃদ্ধির কারণে সেদেশের আমদানিকারকরা এখন আমদানি কম করছেন।

জানা গেছে, গত অর্থ বছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ৯১ হাজার ৬৪ দশমিক ৫৭ মেট্রিক টন বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানি হয়েছে। যার রফতানি  মূল্য ৬৮০ কোটি, ১১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৪ টাকা। ভারত থেকে আমদানি পণ্যের পরিমাণ ছিল ৯৬ হাজার ৫১১.০৭৪ মেঃ টন। আমদানি মূল্য ২৮৮ কোটি ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ৪৪৮ টাকা। আমদানি থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৯১৯ টাকা। যা ২০২০-২১ অর্থ বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২১-২১ অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয় ৭৮ দশমিক ১২ মেট্রিকটন পণ্য। আমদানি মূল্য ১ কোটি, ৯ লাখ, ৯২ হাজার ২১৮ টাকা। রাজস্ব আয় হয় ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৮ টাকা।

জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রড, সিমেন্ট, পাথর, প্লাস্টিক পণ্য, খাদ্য সামগ্রী, মাছ, তোলা ইত্যাদি রফতানি হয়। আমদানি হয়েছে গম, চাল, পেঁয়াজ, আদা, ভুট্টা ইত্যাদি। 

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ মিয়া শানু বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে সরকারের কাছে দাবি করে আসছি সরকারি নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতীত সব ধরনের পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানির অনুমোদন দেওয়ার জন্য। এতে ব্যবসায়ীরা এ বন্দর করে আমদানি করতে উৎসাহিত হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় হবে।

স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান শোয়েব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাজিব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই বছর ব্যবসায় মন্দা গেছে। এখন অনেকটা ভালো। তিনি এ বন্দর দিয়ে সব ধরণের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বন্দর দিয়ে বেনাপুলের মতো সব পণ্য আমদানি উন্মুক্ত করে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা এ বন্দর ব্যবহার করতো। যা এখন করতে পারছে না। আর সম্প্রতি ভারতে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সে দেশের আমদানিকারকরা আমদানি কম করছে।

আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, করোনা মহামারি কাটিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আমদানি-রফতানি বেড়েছে। বিশেষ করে গত অর্থ বছরে এ বন্দর দিয়ে প্রচুর গম ও চাল আমদানি হয়। এছাড়া কিছু কিছু পেঁয়াজ, আদা, ভুট্টা আমদানি হয়। এতে ভ্যাট, শুল্ক এআইটি ও এটিবিসহ (অগ্রিম ভ্যাট ট্যাক্স) রাজস্ব আয় হয়েছে ৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ৯১৯ টাকা। 

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)