Prime Minister221

রাজনীতিবিদের জন্য মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও পাঁচ সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে এ শোক প্রস্তাব আনা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। চলতি সংসদের সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।

প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার অবদান স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া তার নির্বাচনী এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তিনি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফজলে রাব্বী মিয়া একটি আসন থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি তার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেও নির্বাচনে জিতেছেন, যার মানে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অতুলনীয় ছিল।

তিনি বলেন, সাতবারের বিজয়ী সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ছাত্রলীগের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগে সক্রিয় রাজনীতি করেন। একসময় জাতীয় পার্টিতে যোগ দিলেও আবার ফিরে আসেন ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি একজন দক্ষ আইনজীবী ছিলেন, কাজেই আইন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতেন। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ফজলে রাব্বী মিয়া গাইবান্ধায় তার নির্বাচনী এলাকা নদীভাঙন কবলিত, বন্যা ও মঙ্গাপ্রবণ হলেও তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গিয়েছেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সরকার সে এলাকার মঙ্গা দূর করতে সক্ষম হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত আর কখনো মঙ্গা হয়নি।

গাইবান্ধায় নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ সে অঞ্চলের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সবসময়ই তার এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতেন। কাজেই তার মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজহিতৈষী মানুষের মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির।

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকা ফজলে রাব্বী মিয়ার স্বাস্থ্যের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এছাড়া জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, শিনজো আবে ছিলেন বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)