কাজে ফিরেই চা শ্রমিকদের নতুন রেকর্ড
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মজুরি বাড়ার দাবিতে টানা আন্দোলন করায় চা বাগানে তোলা হয়নি কোনো পাতা। ফলে ১৯ দিনে গাছে বেড়েছে অতিরিক্ত ঝলকানি। এ নিয়ে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে পড়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। আর কাজে ফিরে শ্রমিকরাও আনন্দের সঙ্গে তুলছেন চা-পাতা। প্রতিদিনই সংগ্রহ হচ্ছে কয়েক লাখ কেজি। তবে রেকর্ড পরিমাণ এ পাতা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদন বেশি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে এসব পাতা রাখছেন কেউ কেউ।
বিরতিহীনভাবে ফ্যাক্টরি চললেও চা-পাতা উৎপাদনে স্মরণকালের প্রচুর কাঁচামাল কাঁচাপাতা সংগ্রহে হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন চা-বাগানে এমনই দৃশ্য চোখে পড়েছে।
চা-শ্রমিকরা বলেন, জীবনে এত পাতা তুলিনি। সর্বোচ্চ ৫০ কেজি তোলা ছিল রেকর্ড। কিন্তু গত দুদিনে প্রতিজনে আমরা ১০৬-১১০ কেজি পর্যন্ত পাতা তুলে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছি। নারী ও পুরুষ শ্রমিক পাতা তোলার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। পাতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সকাল-বিকেল চলছে বাগানে বাগানে পাতা সংগ্রহ। এতদিনের মজুরি বাড়ার আন্দোলনের লোকসান পোশাতে এখন তৎপর তারা।
বাগান ব্যবস্থাপকরা বলছেন, আমরা এত বেশি চা-পাতা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। ২৪ ঘণ্টা কারখানা চালাচ্ছি। পাতা রাখার স্থান দিতে পারছি না। চা-পাতা উৎপাদনের গুণগতমান রক্ষা করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার রাজনগর চা বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, কাঁচাপাতা রাখার ট্রাপ হাউজ ভরপুর। তাই ম্যানেজার বাংলো ও কোম্পানি বাংলোর বারান্দায় পাতা রাখা হয়েছে। এছাড়া পাতা রাখা হয়েছে সহকারী ম্যানেজারদের বাসার ফ্লোরে ও মন্দির ঘরের পাশের বৈঠকখানার মেঝেতে।
রাজনগর চা বাগানের হালকা পাতলা গড়নের নারী চা শ্রমিক মিনা অলমিক বলেন, আমার জীবনে এত চা-পাতা ওঠাতে পারিনি। একদিনে ৮০ কেজি পাতা তুলেছি।
জেলার করিমপুর চা-বাগানের শ্রমিক গোপাল গোয়ালা বলেন, এক বেলাতেই ১১০ কেজি চা-পাতা তুলতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
মাথিউরা চা-বাগানের নারী চা শ্রমিক ময়না রাজভরবলেন, আমি আমার জীবনে এ প্রথম ১০০ কেজি পাতা তুলেছি। যা নিজের কাছে অবাক লেগেছে।
চা-বাগানের সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার আনিসুর রহমান বলেন, সাধারণত ২-৪ ইঞ্চি লম্বা পাতা তোলা হয়। ১৯ দিন বন্ধ থাকার কারণে চা গাছের পাতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পাতা তোলা হচ্ছে। যে কারণে অনেক বেশি পাতা উঠছে। এত পাতা একসঙ্গে সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। আবার চা গাছ ক্লোনিং (ছাঁটাই) করতে হবে। না হলে গাছ থেকে পাতা বের হবে না। তবে মৌসুম রক্ষার জন্য পাতা তোলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, আমার বাগানে দুদিনে দুই লাখ কেজি পাতা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা নিয়ে আমরা রাতদিন পরিশ্রম করছি। পাতা রাখার স্থান দিতে পারছি না। বাগানের যেখানে খালি জায়গা পাচ্ছি সেখানে পাতা রাখছি। সব মিলিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রয়েছি।
জেলার মাথিউরা চা বাগানের প্রধান ম্যানেজার মো. সিরাজদৌলা বলেন, কাঁচাপাতা নিয়ে বেশ ব্যস্ততার মধ্যে পড়েছি। আমার বাগানে কারখানা না থাকায় কোম্পানির অন্য বাগানে পাতা পাঠাতে হচ্ছে। এতে পাতার গুণগত মান রক্ষা করা কঠিন। রেকর্ড পরিমাণ তোলার কারণে ট্রাপ হাউজে পাতা রাখার জায়গা নেই।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম //



