ভারতের ট্রানজিট পণ্য পৌঁছেছে চট্টগ্রাম বন্দরে
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির আওতায় পরীক্ষামূলক শেষ দুটি চালানের একটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ট্রানজিটের এক কনটেইনার পণ্যসহ (রড) বাংলাদেশি জাহাজ এমভি ট্রান্স সামুদেরা চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি জেটিতে ভিড়ে। জাহাজটিকে বার্থিংয়ে সহযোগিতা করে বন্দরের শক্তিশালী টাগ কাণ্ডারী ১১।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এমভি ট্রান্স সমুদেরার শিপিং এজেন্ট ম্যাঙ্গো লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল সুজন বলেন, কলকাতা বন্দর থেকে মোট ১২৪ একক আমদানি পণ্যবোঝাই করে জাহাজটি রাত ৮টায় চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। এরমধ্যে একটি কনটেইনারে ট্রানজিট পণ্য আছে। বাকি কনটেইনারে আছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আমদানি করা পণ্য।
এর আগে, রোববার সকালে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে কলকাতার শ্যামপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর ছেড়ে আসে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ট্রানজিট পণ্যভর্তি কনটেইনারটি বন্দরের বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেটি সড়কপথে শ্যাওলা (সিলেট)-সুতারকান্দি (ভারত) স্থলবন্দরের মাধ্যমে ভারতের আসামে নেয়া হবে।
এছাড়া চলতি সপ্তাহে মেঘালয় থেকে চায়ের কনটেইনার ডাউকি (ভারত)-তামাবিল (বাংলাদেশ) হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কলকাতা বন্দরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি ট্রানজিটের পরীক্ষামূলক শেষ চালান।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য সরবরাহ করতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে চুক্তিবদ্ধ হয় ভারত-বাংলাদেশ। এরপর ২০২০ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় প্রথম পরীক্ষামূলক চালান। এরমধ্য দিয়েই সূচনা হয় নতুন এক দিগন্তের।
প্রথম পরীক্ষামূলক চালানটির মাধ্যমে ৬৯৪ ডলার বা ৫৮ হাজার ৮৯৯ টাকা আয় করে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস। এছাড়া পণ্য পরিবহন করে বেসরকারি খাতে আয় হয় দুই লাখ ৭২ হাজার টাকা।
চালানটিতে কলকাতা বন্দর থেকে চারটি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি সেঁজুতি’। এরমধ্যে দুটি কনটেইনারে ছিল টিএমটি স্টিল বার, যা পরে স্থলপথে ভারতের ত্রিপুরায় যায়। বাকি দুই কনটেইনারে ছিল ডাল, যা ভারতের আসামে নেয়া হয়।
ট্রানজিটের পণ্য পরিবহন করে তিন খাতে আয় করবে বাংলাদেশ। এরমধ্যে প্রথমটি হলো পণ্য পরিবহনে নানা ধরনের মাশুল ও খরচ। দ্বিতীয়টি হলো বন্দরের সেবা মাশুল। তৃতীয়টি হলো দেশীয় যানে ট্রানজিট পণ্য পরিবহন। এছাড়া সমুদ্রপথে দেশীয় কনটেইনার জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ফলেও লাভবান হবেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ট্রানজিট চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর দিয়ে পরীক্ষামূলক চালান আনা-নেয়া হচ্ছে- এটি গৌরবের। এতে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশ উপকৃত হবে। বন্দরের ফি, কাস্টমসের শুল্ক আহরণ বাড়বে, ট্রানজিট পণ্য পরিবহনে ভাড়া পাবে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



