শেখ রাসেল পদক নীতিমালা ২০২২

শেখ রাসেল পদক নীতিমালা ২০২২ চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের অমর স্মৃতি শিক্ষার্থী এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে জাগ্রত রাখার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

একইসাথে শিশু কিশোর ও তাদের উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রেরণা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগাতে এবং স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে শেখ রাসেল পদক নীতিমালা ২০২২ চূড়ান্ত করেছে সরকার।

সোমবার জাতীয় পুরষ্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.খ.ম মোজাম্মেল হক এতে সভাপতিত্ব করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চূড়ান্ত নীতিমালায় শেখ রাসেল পদক প্রদানের জন্য ব্যক্তিগত ৮টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ২টি মোট ১০টি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ক্ষেত্রগুলো হলো, শিক্ষা,  বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া, প্রতিভাবান বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোর, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি, ক্ষুদে প্রোগ্রামার, ক্ষুদে উদ্ভাবক, ক্ষুদে লেখক। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রগুলো ডিজিটাল স্কুল ও ডিজিটাল এক্সিলেন্স। 

পুরস্কার হিসেবে অনন্য পদক, সম্মাননা সনদ ও উন্নতমানের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে। পুরস্কার হিসেবে অবদানের ক্ষেত্রে পদক (২২ ক্যারেটের ১ ভরি স্বর্ণ/১১.৬৬ গ্রাম ওজন), সম্মাননাপত্র ও উন্নতমানের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পদক (২২ ক্যারেটের ১ ভরি স্বর্ণ/ ১১.৬৬ গ্রাম ওজন), সম্মাননাপত্র ও উন্নতমানের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পুরষ্কারের পরিমাণ হ্রাস/বৃদ্ধি এবং ধরণ পরিবর্তন করতে পারবে। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক পুরস্কার প্রদান করা হবে।

নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরকে শেখ রাসেল পদক নীতিমালা এর বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। পুরষ্কার সংক্রান্ত কার্যক্রমের ব্যয় নির্বাহের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর বাজেটে বরাদ্দ নির্ধারিত থাকবে।

পুরস্কার প্রদান সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩১ মার্চ আবেদন আহবান করা হবে। আবেদনপত্র দাখিল করা যাবে ১ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। যাচাই বাছাই কমিটি আবেদন বাছাইকরবে ১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। মূল্যায়ন কমিটি ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। কেন্দ্রীয় কমিটি এই আবেদন চূড়ান্ত করবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এটি ঘোষণা করা হবে ১৮ অক্টোবর।

তিনটি কমিটির মাধ্যমে পুরষ্কার মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এগুলো হলো, যাচাই-বাছাই কমিটি, মূল্যায়ন কমিটি  ও কেন্দ্রীয় কমিটি। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক। এতে সদস্য থাকবে আরও ১১ জন কর্মকর্তা। 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতিত্বে মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হবে। এতে সদস্য থাকবেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও ২১ জন কর্মকর্তা। মহাপরিচালক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এই কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী। 

মহাপরিচালক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এই কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আরও ১৮জন সচিব কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থাকবেন। এই কমিটি আবেদনসমূহ মূল্যায়ন পূর্বক চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য প্রতি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩টি মনোনয়ন সুপারিশসহ জাতীয় পুরষ্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নিকট প্রেরণ করবে।
 
মন্ত্রীসভা কমিটি বাছাইকৃত তালিকা বিবেচনা করে উপযুক্ত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্তভাবে বাছাই করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করবে।

বিনিয়োগবার্তা/কেএইচকে//


Comment As:

Comment (0)