বিএনপির সমাবেশ

দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ ঘোষণা দেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, হামলা-মামলার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চায়। কিন্তু এসব করে লাভ হবে না। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কাজ হচ্ছে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করে থাকা দানবীয় শক্তিকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সরকার দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ যখন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছে, তখন সন্ত্রাসের মাধ্যমে সরকার সে লড়াই পণ্ড করতে চায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। কিন্তু নিপীড়ন-দমন করে বাংলাদেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ এ সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবে।

সরকারকে সতর্ক করে বিএনপির এ নেতা বলেন, এখনো সময় আছে পদত্যাগ করুন। সংসদ বিলুপ্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন। সেই তত্ত্বাবধায়কের অধীনে স্বাধীন নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের নতুন সরকার নির্বাচিত করবে।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও পুলিশের গুলিতে দলের তিন কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর ১৬টি জায়গায় সমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। ১১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শেষ হবে ২৭ সেপ্টেম্বর। দলটির চলমান এ কর্মসূচির মধ্যে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা আহতও হন।

এ ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে শ্রেণী-পেশা ভেদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা সবাই গণতন্ত্রের কর্মী। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। যারা আমাদের সব অর্জন ধ্বংস করেছে, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়েছে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। এ সরকার জনগণের সরকার নয়। এটি লুটেরাদের সরকার।

সীমান্তে মিয়ানমারের বোমাবর্ষণের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সীমান্তে মিয়ানমারের বোমাবর্ষণের পরও সরকার চুপ করে রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় সরকার আজ বুক ফুলিয়ে এ বোমাবর্ষণের প্রতিবাদ করতে পারছে না। সীমান্তে মিয়ানমার বোমা মারছে। অথচ সরকার নীরব। তারা কেবল রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আসলে সরকারের শক্তি শেষ হয়ে এসেছে। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সে কারণেই তারা বিশ্ব জনমতকে এক করতে পারছে না।

পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গতকাল সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিকালে সমাবেশ শুরু হলে কাকরাইল মোড় থেকে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরাপুল এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও তার আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রিজন ভ্যান, এপিসি ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব যথাক্রমে রফিকুল ইসলাম মজনু এবং আমিনুল হকের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এসএম জিলানী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)