81529

বাংলাদেশের লুঙ্গি-গামছার দাপট কলকাতার মেলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: কলকাতায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়েছে হস্তশিল্প ও পর্যটন মেলা। মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৪০ জন ব্যবসায়ী। মেলা চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলায় প্রবেশ সবার জন্য উন্মুক্ত।

অষ্টম বছরে এই মেলার থিম কান্ট্রি ‘বাংলাদেশ’। কলকাতা ও বাংলাদেশের সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের সংগঠন ‘গ্রাসরুট ও এসএজিডিএফ’র উদ্যোগে কলকাতার মহাবোধি সোসাইটি হলে শুরু হয়েছে এই মেলা।

করোনার কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল মেলা। চলতি বছর মেলা শুরু হতেই কলকাতার গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। মেলায় উচ্ছ্বসিত দুই বাংলার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, কলকাতার মানুষের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের গামছা ও লুঙ্গি। সঙ্গে হাতে তৈরি নকশী কাঁথা, বেডশিট, টি-শার্ট ও মশারির চাহিদা রয়েছে ব্যাপক।

বাংলাদেশের ইরা বুটিকসের কর্ণধার ইলিনা রাহী ইরা বলেন, কলকাতায় সামনেই পূজা। এমন সময় মেলা আয়োজিত হওয়ায় ক্রেতাদের বাড়তি সাড়া পাচ্ছি। 

আরেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী রোকসানা রিপু বলেন, মেলায় ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, হাতে বোনা টুপির ব্যাপক চাহিদা। আরো কিছুদিন আগে এই মেলা শুরু হলে আরো ভালো বাজার পাওয়া যেত।

মেলায় আসা আসা কলকাতার দিশারী পাল বলেন, বাবার জন্য গামছা-লুঙ্গি কিনতে মেলায় এসেছি। বাংলাদেশের কাপড়ের গুণগত মান অনেক ভালো।

আইটি কর্মী সুশোভন হাজরা বলেন, ঢাকাই জামদানি নামে কলকাতায় অনেক শাড়ি বিক্রি হয়। তবে তার বেশিরভাগই নকল। মাকে পূজার উপহার হিসেবে আসল ঢাকাই জামদানি দিতে পেরে আনন্দিত।  

মেলা আয়োজক ও ব্যবসায়ী নাদিরা হোসেন রূপা বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনের বেশি ব্যবসায়ী মেলায় অংশগ্রহণ করলেও চলতি বছর এসেছেন মাত্র ১৬ জন। মেলায় অন্য বছরগুলোর তুলনায় বেশি সাড়া পেয়েছি আমরা। আমরা চেষ্টা করব পরের বছর কিছুটা আগে শুরু করার।

কলকাতার মেলা কমিটির অন্যতম আয়োজক সুমিত রায় চৌধুরী বলেন, অষ্টম বছরে আমরা হস্তশিল্পের পাশাপাশি দুই বাংলার অফবিট পর্যটন ক্ষেত্রগুলোকে প্রজেক্ট করতে আলাদা কাউন্টার করেছি। সেখানেও ভালো সাড়া পেয়েছি। তবে অনিবার্য কারণে আমাদের মেলার পূর্ববর্তী স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে চলতি বছর মেলা শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে ভারতের কলকাতা, রাজস্থানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক গড়ে উঠছে।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)