ইপিবির পরিসংখ্যান
সেপ্টেম্বরে রফতানি কমেছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে দেশ থেকে পণ্য রফতানি কমেছে। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ ৭ হাজার ডলারের পণ্য।
রোববার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪১৬ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি হয়। যা ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি ছিল।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।
পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সদ্যসমাপ্ত সেপ্টেম্বরে দেশের রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রফতানি হয়েছে প্রায় ৩১৬ কোটি ১৬ লাখ ৭ হাজার ডলারের। ২০২১ সালের একই সময় রফতানি হয়েছিল ৩৪১ কোটি ৮৮ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। সে হিসেবে রফতানি কমেছে ৭ শতাংশেরও বেশি। আলোচ্য সময়ে পোশাক রফতানিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে যে প্রবৃদ্ধিতে মন্দা হবে, সে বিষয়ে বিজিএমইএ ইতোমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং সেপ্টেম্বরের রপ্তানি পরিসংখ্যানে তা স্পষ্টতই প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, কোভিড পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী খুচরা বাজার বিভিন্ন সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষকরে, কনটেইনারের অপ্রতুলতা এবং সাপ্লাই চেইন সংকট, কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে পূর্বাভাষ অনুযায়ী মন্দার আবির্ভাব যার কারনে খুচরা বিক্রয়ে ধ্বস নেমেছে, ক্রেতাদের পোশাকের চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে – প্রভৃতি সংকটে শিল্প বিপযর্স্ত। ক্রেতারা তাদের ইনভেন্টরি এবং সাপ্লাই চেইনকে নিজেদের জন্য লাভজনক রাখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে - এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ উৎপাদন এবং অর্ডার পযর্ন্ত আটকে রেখেছে। সামগ্রিকভাবে শিল্পের জন্য একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও আমরা টেকসই উন্নয়ন এবং প্রতিযোগী সক্ষমতায় আমাদের শক্তি আমরা দেখিয়েছি, তারপরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ২০২২ সালের শেষ ত্রৈমাসিকের জন্য আশাব্যাঞ্জক কিছু অনুমান করা কঠিন করে তোলে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



