জনগণকে অপচয় কমানো এবং সঞ্চয়ের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: জনগণকে অপচয় কমানো এবং সঞ্চয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি তিনি সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে তাদের সাধ্যমতো সঞ্চয় করার অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে এটি সরকারের জন্যও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা কোনও অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়াবো না। বরং আমরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী এবং সচেতন হবো।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনও কিছুই অপ্রয়োজনে ব্যবহার করতে যাবে না। আমরা যা প্রয়োজন তা ব্যবহার করবো। এর বেশি নয়। আমাদের অপ্রয়োজনীয় কোনও কিছু ব্যবহারের সুযোগ নেই। কারণ, আমি বিশ্বনেতা ও সংস্থার প্রধানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখেছি। তাই আমাদের যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বজায় রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সরকার তা-ই করবে, যতদিন জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে।
তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতদিন মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকবে ততদিন আমাদের কোনও টেনশন নেই। আমাদের জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের কাজে লাগাতে হবে, যেভাবে আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলার সময় করেছিলাম।
যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীকে আরও খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় আগামী বছরে একটি গভীর সংকটের আশঙ্কা করছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এটি এখন আমাদের জন্য অনিবার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের একটা সুবিধা আছে। আমাদের জমি অনেক উর্বর। যেখানে বীজ বপন করা হয় সেখানেই কিছু উৎপন্ন হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এটা বলতেন। বঙ্গবন্ধুর এই বাণী অনুসরণ করে ব্যাপকভাবে খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে। শুধু তা-ই নয়, খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর/কেএইচকে//



