আইএমএফ

ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় আইএমএফের প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার অংশ হিসেবে ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল। 

বুধবার (২৬ অক্টোবর) থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে প্রতিনিধি দলটি। 

আইএমএফের এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর প্রধান রাহুল আনন্দ দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আইএমএফের দল আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সঙ্গে নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর একে একে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের আরও কিছু দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে দলটি। আগামী ৮ বা ৯ নভেম্বর দলটির শেষ বৈঠক হবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে।

গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ ঋণ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল আইএমএফের কাছে। চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফের বার্ষিক সভায় ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার এক ফাঁকে এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন দল আইএমএফের সঙ্গে এক দফা আলোচনাও করে।

আইএমএফ ২১ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তাদের এবারের ঢাকায় আসা মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার ও নীতি নিয়ে আলোচনা করা। সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কর্মকর্তা পর্যায়ে চুক্তির অগ্রগতির জন্য আলোচনা করা। আলোচনা হবে আইএমএফের বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিলসহায়তা (ইএফএফ) কর্মসূচি এবং নতুন উদ্যোগ, সহনশীলতা ও টেকসই–সহায়তা তহবিল (আরএসটিএফ) কর্মসূচি থেকে এ ঋণ পাওয়ার ব্যাপারে।

আরএসটিএফ ঋণের অধীনে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে অর্থায়ন করা হয়। আইএমএফের কাছে ঋণের জন্য চাওয়া চিঠিতে এই আরএসটিএফের কথাও উল্লেখ করেছিল বাংলাদেশ।

এক দশক আগে আইএমএফের ইসিএফ থেকে ৭ কিস্তিতে ১০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর এবারই সংস্থাটি থেকে ঋণ নেওয়ার আলোচনা হবে। আইএমএফের কাছে পাঠানো চিঠিতে ঋণ পাওয়ার পক্ষে বাংলাদেশ সার্বিক অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে।

জানা গেছে, ৪৫০ কোটি ডলারের মধ্যে লেনদেনের ভারসাম্য বাবদ ১৫০ কোটি ডলার ও বাজেট–সহায়তা বাবদ ১৫০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে। বাকি ১৫০ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে আইএমএফের আরএসটিএফ থেকে।

বিনিয়োগবার্তা/এমআর// 


Comment As:

Comment (0)