শেষ হলো এবারের রাস উৎসব

কুয়াকাটায় গঙ্গাপূজা ও সমুদ্রস্নানে শেষ হলো এবারের রাস উৎসব

পটুয়াখালী (কুয়াকাট) প্রতিনিধি: ঊষালগ্নের আগেই সমুদ্রের সামনে হাজির হাজারো নারী-পুরুষ। তাদের হাতে মোমবাতি, ধূপকাঠি, পান, বেলপাতা, ফুল, ধান, দূর্বা, হরিতকী, ডাব, কলা, তেল, সিঁদুর ও নারকেলের ছোবড়া। সূর্য উঁকি দিতেই গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে এসব সাগরের পানিতে ভাসিয়ে সেরে নেওয়া হয় পুণ্যস্নান।

এরপর কেউ মাথা ন্যাড়া করেন, কেউ করেন পিণ্ড দান; অনেকেই প্রার্থনা করেন মৃত আত্মীয়স্বজনের জন্য। আর এভাবেই মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে শেষ হয় এবারের রাস উৎসব।

সোমবার (৭ নভেম্বর) রাস উৎসবে অংশ নিতে ভক্তরা আসতে শুরু করেন কুয়াকাটায়। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় পুরো সৈকত এলাকায়। রাখাইন মাঠে উন্মুক্ত কনসার্টের আয়োজন করে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন ও কুয়াকাটা পৌরসভা। এরপর রাতভর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে চলে পূজা-অর্চনা, সংগীতানুষ্ঠান ও মহানাম কীর্তন।

রাস উৎসবের প্রধান সমন্বয়কারী কাজল বরণ দাস বলেন, ‘দ্বাপর যুগে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা, হিংসা, হানাহানি দেখে ভগবান দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের জন্য শ্রীকৃষ্ণ নাম ধারণ করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। এরপর প্রায় দুইশ বছর পূর্ণিমা তিথিতে এ রাসলীলা উৎসব ও মেলা চলে আসছে।’

পুণ্যস্নানে আসা শ্যামল দাস বলেন, ‘নানা রকম সমস্যার মধ্যে এ বছরটা পার করেছি। সামনের দিনগুলো যেন ভালো কাটে, সে মনোবাসনা নিয়ে কুয়াকাটায় পুণ্যস্নান করতে এসেছি। ভালোভাবে ধর্মীয় সব আচার পালন করতে পারায় নিজের কাছে ভালো লাগছে।’

বাবার নামে মানত করেছিলেন মাদারীপুরের বিশ্বজিৎ। তিনি বলেন, ‘বাবা মারা গেছেন কয়েক মাস হলো। তার নামে মানত করেছিলাম। পূর্ণিমা তিথিতে রাসপূজার সময় মাথা ন্যাড়া করব বলে ঠিক করি। মানত রক্ষা করতে পেরে ভালো লাগছে।’

মহিপুর থানার ওসি খন্দকার আবুল খায়ের বলেন, ‘পূজায় আসা সব পুণ্যার্থী সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে এখান থেকে না যাওয়া পর্যন্ত আমি অফিসে যাব না। আমাদের নিরলস প্রচেষ্টার কারণে কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই সুন্দরভাবে শেষ হলো এবারের রাস উৎসব।’

বিনিয়োগবার্তা/এসকে/এমআর//


Comment As:

Comment (0)