শিগগিরই কেটে যাবে দেশের গ্যাস সমস্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে গ্যাস সমস্যা শিগগিরই কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাতারের সাথে আমরা আলাপ করেছি। দেশগুলো আমাদের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দিতে রাজি হয়েছে। এ সব দেশ থেকে এলএনজি কিভাবে আমদানি করা যায়, সেটা নিয়ে জ্বালানী মন্ত্রণালয় কাজ করবে।
তিনি বলেন, আগে আমাদের এলএনজি আমদানির উৎস সীমিত ছিল। এটা আমরা সফলভাবে বাড়িয়েছি। এমনকি চীনও জরুরি প্রয়োজনে আমাদের এলএনজি দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি শিগগির এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) খেলার মাঠে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে - এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ড. মোমেন বলেন, এটা সত্য কথা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতেও গ্যাস রেশনিং করা হচ্ছে। এটা মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত ও আর্থিক লেনদেনে সমস্যা হওয়ার কারণে হয়েছে। এছাড়া জ্বালানী নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠাও কিছুটা দায়ী। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রীদের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিশ্বে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ঠ রয়েছে। উল্টো তেলের মূল্যে ধ্বস নামার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহত তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোটকে (ওপেক) যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশগুলো উল্টো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
ডলার সঙ্কট সুরাহায় সরকার কি পদক্ষেপ নিচ্ছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রথমত ‘সঙ্কট’ শব্দটির সাথে আমি একমত নই। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখনো ৩৪ বা ৩৫ বিলিয়ন ডলার। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে রিজার্ভ তিন থেকে সাড় তিন বিলিয়ন ডলারের মধ্যে উঠানামা করত। বর্তমানে ডলারের কোনো সঙ্কট নেই। এটা মিডিয়ার প্রচারণা। অনেকে এলসি (ঋণপত্র) খুলতে ওভার বা আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ডলার পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে এলসি খোলার ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর//



