Dhaka Ashulia Expressway

অনুমোদনের পাঁচ বছর পর শুরু হচ্ছে ঢাকা-‘আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভার থেকে বিমানবন্দর—২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী শনিবার কাজটি উদ্বোধন করবেন। 

২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। যদিও কাজ শুরুর আগেই ফুরিয়ে যায় মেয়াদ। তাই প্রকল্পটি সংশোধন করে আরো চার বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সঙ্গে নির্মাণ ব্যয়ও বেড়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকায়।

ঢাকা-আশুলিয়া হবে রাজধানীর দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রথমটি হচ্ছে বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে)। নকশা অনুযায়ী, বিমানবন্দরে এসে একসঙ্গে মিলবে ঢাকা ও ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলোকে আর ঢাকার যানজটে পড়তে হবে না। দুটি এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে দ্রুতই রাজধানীর একপ্রান্ত থেকে চলে যেতে পারে অন্যপ্রান্তে।

জি টু জি পদ্ধতিতে চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণে তৈরি করা হবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি। বিদেশী এ ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সঠিক সময়ে শুরু না হওয়ার মূল কারণও চীনের ব্যাংকটির সঙ্গে সময়মতো ঋণচুক্তি করতে না পারা। মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র আট মাস আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর নির্মাণকাজের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলক পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রয়োজনীয় পরীক্ষামূলক কাজ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হবে আগামী শনিবার।

সরকারের সেতু বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও ইপিজেডসংলগ্ন শিল্প এলাকার যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে এক্সপ্রেসওয়েটি। এটি ব্যবহার করে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২০টি এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচ-ছয়টি জেলার মানুষ সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সরাসরি সংযুক্ত হয়ে রফতানি পণ্য পরিবহনেও রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে (ডিপিপি) বলা হয়েছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়ন হলে ফাইন্যান্সিয়াল আইআরআর এবং ইকোনমিক আইআরআরের পরিমাণ হবে যথাক্রমে ১৩ দশমিক শূন্য ৫ ও ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক বেনিফিট কস্ট রেশিওর পরিমাণ দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ দশমিক শূন্য ৬ ও ১ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর দেশের জিডিপিতে শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রভাব ফেলবে এ উড়ালসড়ক।

নকশা অনুযায়ী, ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হবে বিমানবন্দর, আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড রুটে। বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উড়ালসড়কে ওঠানামার জন্য তৈরি করা হবে ১৬টি র‌্যাম্প। আর র‌্যাম্পগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি প্রায় ১৪ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ করা হবে একই প্রকল্পের মাধ্যমে। এছাড়া নবীনগর এলাকায় তৈরি করা হবে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার, ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু, ৫০০ মিটার ওভারপাস। করিডোরটিতে টোলপ্লাজা তৈরি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)