icmab

আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড পেল ৬৫ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ১৭ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

৬৫ প্রতিষ্ঠানকে বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)। পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিগুলোর ২০২১ সালের গভর্ন্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ১৭ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের বাণিজ্য সচিব একটা তথ্য দিয়েছিলেন যে গত মাসে আমরা (বাংলাদেশ) রেকর্ড ৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছি। এখানে এসে আমি বিএসইসি চেয়ারম্যানকে বলার পর তিনি আমাকে আরেকটি তথ্য জানালেন। তা হলো গত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে রেকর্ড ২ বিলিয়ন ডলার।

চারদিকে বলাবলি হচ্ছে যে আমাদের অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। আমরা পিছিয়ে যাব। আজকে অনেকের কথা শুনেছি৷ তাদের এগিয়ে যাওয়া ও স্বীকৃতির মাধ্যমে বোঝা যায়, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এগিয়ে যাব।

যারা রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার কথা ছড়াচ্ছেন তারা জেগে থেকে ঘুমাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি শুনেছি আইসিএমবি অনেক পুরস্কার পেয়েছে ও পেতে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় তারা নিজেদের শিক্ষার মান বাড়িয়েছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

আইসিএমএবি আজ স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে শুধু পুরস্কারপ্রাপ্তদের সম্মানিত করেনি, নিজেরাও বড় হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম ও ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশ নতুন লেভেলে চলে গেছে। নভেম্বরে রেকর্ড ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। আরও বাড়বে, বাংলাদেশ আরও ভালো করবে। মাথাপিছু আয় তিন হাজারে চলে গেছে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সামনে কঠিন সময়, এসডিজি ও ভিশন ২০৪১ পূরণ করতে হলে কম্পিটিটিভ হতে হবে। আমাদের সাপ্লাই চেইনে সমস্যা আছে। এ সমস্যা দূর করা জরুরি। গ্যাস বিদ্যুতের স্মুথ সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। এ জন্য সবকিছুর উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে চাইলে সবগুলো আইটেমই কোয়ালিটিসম্পন্ন হতে হবে। বিদেশে যেগুলো যায় সেগুলোর মান নিয়ে কাজ করতে কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের দরকার।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কস্ট ম্যানেজমেন্ট সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ভালোভাবে নিয়মমাফিক কাজ করলে এসব প্রতিষ্ঠান আরও ভালো হবে। এসব হবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাই আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে।

আইসিএমএবির গুরুত্ব উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত বলেন, পুঁজিবাজারের দুর্বল কোম্পানির বোর্ডে আইসিএমবিকে সংযুক্ত করছি, অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভালো করতে পারবে। এমনকি কিছু ভালো কোম্পানিতেও সংযুক্ত করছি, যাতে তারা আরও ভালো মুনাফা করতে পারে। এতে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আইসিএমএবি যারা প্রফেশনাল তারা অনেকভাবে আমাদের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে পারে। এই পেশাটা বিভিন্ন রকমের অপচয় রোধে কাজ করে থাকে। এলডিসি থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছি আমরা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর অবদান অসামান্য।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুবিধাই থাকবে না। আমরা জিএসপি প্লাস নিয়ে কাজ করছি। আমেরিকান মার্কেটেও কাজ করছি। আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করছি। এজন্য দক্ষ জনবল দরকার। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আমরা ভালো করতে পারব। এ নিয়ে আমি ভীত নই। যারা কস্ট অ্যাকাউন্টে কাজ করছেন তাদের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসায়ীদের সহায়ক হবে।

আইসিএমএবির প্রেসিডেন্ট মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ড কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল আজিজ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনিরুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

এবার ১৬৫টি প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ২৮টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে ১৭ বিভাগে তিনটি করে (প্রথম পুরস্কার স্বর্ণ, দ্বিতীয় পুরস্কার রৌপ্য ও তৃতীয় পুরস্কার ব্রোঞ্জ) মোট ৬৫ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেয়া হয়।

এ বছর জুরিবোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বোর্ডে সদস্য হিসেবে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন আহমেদ।

আইসিএমএবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রাণাধীন পেশাগত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টিং পেশার উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রসারের লক্ষ্যে দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রদান এবং এসব বিষয়ে গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

১৭ ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে জনতা ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় সোনালী ব্যাংক ও তৃতীয় অবস্থানে আছে রূপালী ব্যাংক।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ডাচ-বাংলা ও ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কারও যুগ্মভাবে পেয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক লিমিটেড।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (ইসলামিক অপারেশন): এই ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংক এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অফ বাংলাদেশ লিমিটেড।

নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। দ্বিতীয় আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন পিএলসি ও লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স।

সাধারণ বীমা: বীমায় গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। সাধারণ বীমা করপোরেশন দ্বিতীয় এবং নিটোল ইন্স্যুরেন্স ও এশিয়া ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

লাইফ ইন্স্যুরেন্স: এই ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে সন্ধ্যানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেছে ন্যাশনাল লাইফ ও পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ।

ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড প্রথম পুরস্কার ঘরে তুলেছে। আরেক শীর্ষ স্থানীয় কোম্পানি রেনেটা লিমিটেড পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে ওরিয়ন ফার্মা ও এসিআই লিমিটেড।

সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং: প্রথম পুরস্কার লাভ করেছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস পিএলসি। দ্বিতীয় হয়েছে এম.আই. সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড।

টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং: প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে স্কয়ার টেক্সটাইল। এস্কোয়ার নিট কম্পোজিট এবং মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এমএনসি ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড এবং ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড। রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি দ্বিতীয় ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেছে।

অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং: এই ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড প্রথম, আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড দ্বিতীয় এবং যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড ও বিবিএস ক্যাবলস লিমিটেড।

পাওয়ার জেনারেশন, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন: এই ক্যাটাগরিতে সামিট পাওয়ার লিমিটেড প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে ডোরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড এবং বারাকা পাওয়ার লিমিটেড।

তেল, গ্যাস ও জ্বালানি: লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড প্রথম, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড দ্বিতীয় এবং এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

এনজিও: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক। দ্বিতীয় অ্যাকশন এইড-বাংলাদেশ। যৌথভাবে তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে সাজিদা ফাউন্ডেশন ও ইউসেপ বাংলাদেশ।

অ্যাগ্রো এবং ফুড প্রসেসিং: প্রথম পুরস্কার পেয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। যৌথভাবে দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে অ্যাগ্রিকালচারাল মার্কেটিং কোম্পানি ও ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেড।

ট্রেডিং ও অ্যাসেম্বলি: প্রথম পুরস্কারটি পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। রানার অটোমোবাইলস পিএলসি পেয়েছে দ্বিতীয় পুরস্কার। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড।

আইটি ও টেলিকমিউনিকেশন: এই ক্যাটাগরিতে স্বর্ণ পেয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছে বিডিকম অনলাইন লিমিটেড।


বিনিয়োগবার্তা/এসএল/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)