জীবন থাকতে দেশের স্বার্থ নষ্ট হতে দেব না
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার জীবন থাকতে বাংলাদেশের এতটুকু স্বার্থ নষ্ট হতে দেব না। টানা তিন মেয়াদে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে কেবল আওয়ামী লীগ।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতার কারণেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পর মানুষের অধিকার সেনানিবাসে বন্দি ছিল। ১৯৯৬ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আসে খালেদা জিয়া। ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না, বিএনপিকেও ছাড়েনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগে কখনো নির্বাচন কমিশনে হস্তক্ষেপ করেনি। আমরা ভোটে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার- আওয়ামী লীগই নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের স্লোগান ছিল- আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছি। তাদের আর্থিক সক্ষমতা তাদের হাতে দিয়ে দিয়েছি। তারা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিয়েছি। সবাইকে ভোটার আইডি কার্ড করে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২ করে দিয়েছি।
দুর্নীতি করে টাকা বানাতে আসিনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জীবন দিয়ে হলেও দেশের স্বার্থ রক্ষা করব। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।তিনি দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য তিনি সেটা পারেননি। আমরা সেটা করছি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের এক সময় আয় ছিলো ৫৩৪ ডলার আর এখন দেশের মানুষের মাথা পিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার। আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য কোভিড প্রনোদনা দিয়েছি। অর্থনীতি যাতে ভেঙ্গে না পরে সেজন্য ছোট ছোট ঋণও আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দিয়েছি। কোভিডের ধাক্কা সামাল দিতে আমরা দেশের আর্থিক প্রনোদনা দিয়েছি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমরা এক সঙ্গে একশো সড়ক ও একশো ব্রিজ উদ্বোধন করেছি। এই ধরনের কাজ কেউ করতে পারেনি। আমরা করেছি। পদ্মা সেতু আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে হয়েছে। যখন এই সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয় তখন আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেই। এই চ্যালেঞ্জ পরিপূর্ণ করতে দেশের মানুষ আমাকে সহায়তা করেছে। এখন এটা আমাদের গর্বের সেতু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা দিতে কোভিড সময় দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। যখন কোভিড টিকা নিয়ে গবেষণা চলে তখনই আমরা টাকা দিয়ে রেখেছি। প্রথম দিকেই আমরা মানুষের জন্য টাকা দিয়ে কোভিড টিকা কিনে এনেছি।কোভিট ১৯ অনেক দেশ মোকাবেলা করতে পারিনি। আমরা করেছি। বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। যত টাকাই লাগুক আমরা কোভিড টিকা এনেছি। ২২ হাজার চিকিৎসক ও ৪০ হাজার নার্স গত ১৩ বছরে আমরা নিয়োগ দিয়েছি। এতে মানুষের সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের ১৯৯৬ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক বিএনপি সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিয়েছিলো। আমরা ক্ষমতায় এসে তা আবার শুরু করেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক আবার শুরু করেছি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সেখান থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে। গত তিন নির্বাচনে মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। এতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু বিএনপি সরকার দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেয়া চেষ্টা করেছি। সে জন্য তারা ১ কোটি ২৩ লাখ ভূয়া ভোটার করেছিলো। তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আমরা তাদের কাছে বলে ছিলাম এই ভোটার তালিকা বাতিল করতে। সেটা তারা করেছিলো ও ছবি সহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছ আওয়ামী লীগ সরকার। যুদ্ধ আর করোনার কারণে বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের বাজারে সংকট হয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমরা দেশের প্রবিদ্ধি ৮ শতাংশে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের করনে সেটা ধরে রাখতে সক্ষম হইনি। যদি বিশ্বের অনেক ধনী দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় পরে আছে। সেই তুলনায় আমরা এখনো অর্থনিতিকে টালমাটাল হতে দেইনি। আমাদের প্রবিদ্ধি এখনো ৬ ও ৭ এর মধ্যে রয়েছে।
বক্তব্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।বলেন, যুদ্ধ চাই না। স্যাংশন চাই না। এগুলো বন্ধ করুন। সব দেশ স্বাধীন, তারা তাদের মতো চলতে পারবে, সে অধিকার তাদের আছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা আমরা জানি।
বিনিয়োগবার্তা/এমআর//



