সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বড় ক্রেতা আমেরিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’কে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তার আসার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা তো সুখের বিষয় যে তিনি আসছেন, তিনি এ অঞ্চলে মোটামুটি নীতিনির্ধারক। তিনি আসবেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক ভালো এবং দেশটি বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বড় ক্রেতা ও অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী।’
শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন প্রাঙ্গণে শান্তি মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে ‘পিস রান বাংলাদেশ ৬-১০ জানুয়ারি ২০২৩’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার (যুক্তরাষ্ট্র) সঙ্গে আমাদের অনেক ভালো সম্পর্ক। আমাদের মধ্যে অনেক কিছু নিয়ে সম্পর্ক। তাই উনি (ডোনাল্ড লু) এলে বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হবে। আমার ধারণা, এতে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হবে এবং আমরা সেই আশাতেই আছি।’
র্যাবের উপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটা ইস্যু নিয়ে সম্পর্ক নির্ধারিত হয় না। একাধিক বিষয় নিয়ে সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। আমেরিকা আমাদের রফতানি পণ্যের বড় ক্রেতা। সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। সুতরাং দু-একটি ইস্যু নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই। সর্বদিক দিয়ে চিন্তা করতে হবে। আমেরিকা চায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, আমরাও চাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আমেরিকা চায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, আমাদেরও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ৩০ লাখ জীবন দিয়েছে। সুতরাং সবদিক দিয়েই আমেরিকার সঙ্গে আমাদের উদ্দেশ্যের মিল রয়েছে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের সব মিশনপ্রধানের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। স্মার্ট বাংলাদেশ হলো ইফেক্টিভ ইউটিলাইজেশন অব রিসোর্সেস (সম্পদের কার্যকর ব্যবহার)। যার ফলে অপটিমাল প্রডাক্টিভিটি হয় এবং ইফেক্টিভ সার্ভিস পাওয়া যায়। আমরা সম্পদ নষ্ট করব না। সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে মানুষের মঙ্গল কীভাবে নিশ্চিত করতে পারি। সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ চেয়েছি।’
মিয়ানমার ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা চাই। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে চাই। তাই আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, পরিবেশ সৃষ্টি হলেই সব সমস্যার সমাধান করা যাবে। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সব সমস্যার সমাধান আমরা শান্তিপূর্ণভাবে চাই। এরই মধ্যে পানি চুক্তি, সীমান্ত চুক্তি কিংবা সমুদ্রসীমা নির্ধারণ—নানা সমস্যার সমাধান আমরা শান্তিপূর্ণভাবে করেছি। একটা বুলেটও ছোড়া হয়নি।’
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//



