ELCOP Organized International Seminar

এলকপের আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা

ফেইক নিউজ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিন এশিয়া ও ব্রিকস্‌ভুক্ত দেশসমূহে ফেইক নিউজ নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ফেক নিউজ মোকাবেলা করতে যুগোপযোগি আইনি কাঠামো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের অঙ্গিকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিক্স সিজনস্‌ হোটেলে “ফেইক নিউজঃ মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এমন মতামত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

বাংলাদেশের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু ল অফ কমন পিপল (এলকপ)  এই আন্তর্জাতিক সেমিনারটির আয়োজন করে। 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও এলকপের চেয়ারম্যান ড, মিজানুর রহমান সেমিনারটিতে সভাপতিত্ব করেন।

সেমিনারের প্রথম সেশনে ‘ফেইক নিউজঃ সার্ক ও ব্রিকস্‌ভুক্ত (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক জোট) দেশসমূহে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সেলিম সামাদ। তিনি তার প্রবন্ধে ফেইক নিউজ নিয়ন্ত্রণে দক্ষিন এশিয়া ও ব্রিকস্‌ভুক্ত দেশসমূহের সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবকে চিহ্নিত করেন।

প্রথম সেশনের পরবর্তী অংশে ‘ফেইক নিউজঃ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ শিরোনামে পেপার উপস্থাপন করেন এলকপের গবেষক আরেফিন মিজান। তিনি তার প্রবন্ধে কিভাবে ফেইক নিউজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা কমিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে সে বিষয়ে আলোচনা করেন। ‘একজন আর দশ জনকে শিখাই’ স্লোগানের মাধ্যমে ফেইক নিউ জ প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে তাঁর প্রবন্ধ উপস্থাপনা শেষ করেন।

উক্ত সেশনে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে অধ্যাপক ডক্টর আবুল বারাকাত, ভারত থেকে ডক্টর অর্ঘ্য সে্নগুপ্ত এবং পুলকেশ ঘোষ। 

ডঃ আবুল বারাকাত বলেন, ফেইক নিউজকে মোকাবেলা করতে যুগোপযোগি আইনি কাঠামো, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের অঙ্গিকার, ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। 

ডঃ অর্ঘ্য সে্নগুপ্ত বলেন, যেহেতু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ফেইক নিউজ ছড়াচ্ছে, সেহেতু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

সেমিনারের দ্বিতীয় সেশনে ‘ফেইক নিউজঃ সার্ক ও ব্রিকস্‌ভুক্ত দেশসমূহে মানবাধিকারের জন্য হুমকি’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলকপের গবেষক অরূপ রতন সাহা। 

তিনি তার প্রবন্ধে মানবাধিকারের উপর ফেইক নিউজের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করার পাশপাশি এসব দেশে যেসকল আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা তুলে ধরেন। 

এরপর এলকপের গবেষক মোঃ জহির উদ্দিন সোহাগ ‘ফেইক নিউজঃ বাংলাদেশের মানবাধিকারের জন্য হুমকি’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি তার উপস্থাপনায় কিভাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের উত্থান ও পপুলিজমের কারনে ফেইকে নিউজ এর দ্রুত বিস্তার হয় এবং এর ফলশ্রুতিতে সাধারন জনগন উত্তেজিত হয়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করতে পারে সে বিষয়টি তুলে ধরেন। ঊক্ত প্রবন্ধে কিভাবে ফেইক নিউজ বাংলাদেশের মানবাধিকারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে উপস্থাপন করা হয়েছে। 

উক্ত সেশনে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে অধ্যাপক ডঃ ইমতিয়াজ আহমেদ, নেপাল থেকে অধ্যাপক ডঃ যুবরাজ সাংরুলা, ভারত থেকে জয়ন্ত রায় চৌধুরী, ডঃ লোপামুদ্রা মৈত্রী বাজপাই, এবং রাশিয়া থেকে ‘স্পুটনিক’ নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ভাসিলি পুশকভ। 

নেপালের সাবেক এটর্নি জেনারেল ডঃ যুবরাজ সাংরুলা বলেন, ফেইক নিউজ বন্ধ করার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রতিটি পর্ব শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জহিরুল ইসলাম খান পান্না, কূটনীতিকদের মধ্যে নেপাল দূতাবাস থেকে ললিতা সিল্বাল, ফিলিস্তিন দূতাবাস হতে নুর আল্যেদি, রাশিয়ান দূতাবাসের উপদেষ্টা অ্যানটন চেরনভ, ও চীনা দূতাবাসের মিস ফি ইয়ু, আদিবাসি অধিকার বিষয়ক সংস্থার সভাপতি সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এর সভাপতি কাজল দেবনাথ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক মোঃ বায়েজিদ হোসেন, নজরুল ইসলাম মিঠু, জে আই মামুন।

ফেইক নিউজ প্রতিরোধের অঙ্গিকার নিয়ে এলকপের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বলের সমাপনি বক্তব্যের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।

বিনিয়োগবার্ত/এমআর/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)