চীন ও বাংলাদেশ

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য চীন ও হংকংয়ের ভিসাপ্রাপ্তিতে সহযোগিতার আহ্বান বিজিএমইএ’র

নিজস্ব প্রতিবেদক: চীন ও হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তিতে আরও সহযোগিতা দিতে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে দূতাবাসে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে বিজিএমইএ পরিচালক তানভীর আহমেদ এবং বিজিএমইএর স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন সেলের চেয়ারম্যান শামস মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল কাউন্সিলর সং ইয়াং বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাব্য সুযোগগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উভয় দেশ কিভাবে আরও সহযোগিতার মাধ্যমে বিশেষ করে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে আরও বেশি পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধা অর্জন করতে পারে সে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং শীর্ষস্থানীয় চীনা ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা শেয়ার করার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠককালে তারা বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক অংশীদারত্ব জোরদার করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে চীন একটি প্রতিশ্রুতিশীল বাজার। এতে উভয় দেশ ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাত থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ঘোষিত রূপকল্প অনুযায়ী ভ্যালু চেইনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কটন থেকে নন-কটনে যাওয়ার মাধ্যমে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং হাই-ভ্যালুড পণ্যগুলোর দিকে ক্রমবর্ধমানভাবে মনোনিবেশ করছে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের পোশাকখাতে ম্যান-মেইড ফাইবার-ভিত্তিক ফেব্রিক্স, কেমিক্যালস এবং অন্যান্য কাঁচামালের চাহিদা বাড়বে। চীন এসব কাঁচামালের একটি বড় উৎস এবং বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে পারে। এছাড়া চীন শীর্ষস্থানীয় গার্মেন্টস এবং টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি রপ্তানিকারকও।

তিনি চীনের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ায় দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, তিনি চীন ও হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তিতে আরও সহযোগিতা দিতে চীনা রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ সভাপতি উভয় দেশের মধ্যে ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা বাড়াতে চীন সরকারকে অনুরোধ করেন এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতকে ফারুক হাসান জানান, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ হংকংয়ে ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল সামিট’ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কনস্যুলার সেবা সহজতর করতে, বিশেষ করে ব্যবসায়িক উদ্দেশে হংকং সফর এবং সম্মেলনে যোগদানের জন্য ভিসা পেতে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)