৬ মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২২) এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রিয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর’২২) এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩ হাজার ৯৬২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যার পরিমাণ ১ হাজার ৫০১ কোটি টাকা বেশি। ২০২১ সালের একই সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিলো ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা।
এদিকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে রাখা আমানতের পরিমাণ ২৯ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে যার পরিমাণ ছিলো ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ চার বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ২৬ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা।
জানা যায়, দেশের ব্যাংক খাতে ২০১৪ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। যাত্রা শুরুর মাত্র ৯ বছর শেষে এই সেবার গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৪টি। সদ্য বিদায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরে দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে এরকম এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ২২৬টি। আর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট বেড়ে হয় ২০ হাজার ৮৩৬টি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে। নীতিমালা অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রত্যেক এজেন্টের একটি চলতি হিসাব থাকতে হয়। এ সেবার মাধ্যমে ছোট অঙ্কের অর্থ জমা ও উত্তোলন করা যায়। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় মুদ্রায় বিতরণ, ছোট অঙ্কের ঋণ প্রদান ও আদায় এবং এককালীন জমার কাজও করেন এজেন্টরা। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপযোগ সেবার বিল পরিশোধের পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থও উত্তোলন করা যায়। এ ছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ আবেদন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারেন এসব এজেন্ট। তবে এখনো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই এজেন্টদের।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



