হাসপাতাল

সরকারি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ ফি ৩০০, অপারেশন ৪ হাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী মাস থেকেই সরকারি হাসপাতালে অফিস সময়ের পর বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে চায় সরকার। 

ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা নীতিমালা। ৩০০ টাকায় দেখানো যাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। চার হাজার টাকার মধ্যে করা যাবে যেকোনো অপারেশন। রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থাও থাকবে ২৪ ঘণ্টা। বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত একটি কমিটির খসড়া নীতিমালায় এ প্রস্তাব করা হয়েছে।

দেশে সরকারি হাসপাতাল ছয়শোর বেশি। জেলা-উপজেলার ৭৪টি হাসপাতালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে এই সেবা। অফিস সময়ের পর এ সব হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন। এবার সরকারি হাসপাতালেই চালু হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বার।

সূচি অনুযায়ী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক সপ্তাহে দুই দিন করে রোগী দেখবেন। টিকিট নেয়া যাবে দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ফি ৩০০ টাকা। এই টাকায় এক মাসের মধ্যে ফলো-আপ হিসেবে আরও একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া যাবে। আর ১৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকায় করা যাবে যে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, পরামর্শ ফির ৩০০ টাকার মধ্যে চিকিৎসক ১০০, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ১০০ এবং ১০০ টাকা জমা হবে সরকারি কোষাগারে। আর অস্ত্রোপচারের ফি থেকে অর্ধেক পাবেন চিকিৎসক। এ সব অর্থ দুই মাস পর হাতে পাবেন চিকিৎসকেরা। এই সেবায় যুক্ত কোনো চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার আগে হাসপাতাল ছাড়তে পারবেন না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বৈকালিক চেম্বারে চিকিৎসকের সেবার মান ভাল হলে, তা পদোন্নতি ও উচ্চ শিক্ষার জন্য সহায়ক হবে।

গত ২২ জানুয়ারি বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা চালুর বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমানকে প্রধান করে আরও ২০ জন কমিটির সদস্য করা হয়। পরে আরও ছয়জন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন।

জানা যায়, কমিটি এখন পর্যন্ত দুটি বৈঠক করেছে। বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে চলবে, সে বিষয়ে ‘ইনস্টিটিউশনাল প্র্যাকটিস’ নামের একটি খসড়া নীতিমালা ইতোমধ্যে তৈরি করেছে কমিটি। নীতিমালাটি চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার কমিটির শেষ বৈঠক হবে। বৈঠকে নীতিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, অফিস সময়ের পর নিজ কর্মস্থলে চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারের সময় হবে বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা। সেবা পেতে রোগীকে টিকিট কাটতে হবে।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের ফি হবে ৩০০ টাকা। কনিষ্ঠ চিকিৎসকের ফি ১৫০ টাকা। ফি থেকে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক পাবেন ২০০ টাকা। তার সহায়তাকারী পাবেন ৫০ টাকা। বাকি ৫০ টাকা সরকারি তহবিলে জমা পড়বে। ফি থেকে কনিষ্ঠ চিকিৎসক পাবেন ১০০ টাকা। তার সহায়তাকারী পাবেন ২৫ টাকা। বাকি ২৫ টাকা যাবে সরকারি তহবিলে।

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়, একজন অধ্যাপক সপ্তাহে দুই দিন, সহযোগী অধ্যাপক দুই দিন, সহকারী অধ্যাপক দুই দিন রোগী দেখবেন। চিকিৎসক যদি রোগীকে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেন, রোগী চাইলে তা সরকারি হাসপাতালে করতে পারবেন। আবার বেসরকারি হাসপাতালেও করতে পারবেন।

কমিটির প্রধান সাইদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, নীতিমালা চূড়ান্ত করতে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। আমরা আশা করছি, মার্চের মধ্যেই সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস চালু সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে উপজেলা পর্যায়ের ৫০টি, জেলা পর্যায়ে ২০টি, বিভাগীয় ৮টি ও বিশেষায়িত ৫টি সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট চেম্বার চালু হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট চেম্বার চালুর পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)