ধান-চাল সংগ্রহে এবারো ব্যর্থতা, কমছে চালের মজুদ
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বরাবরের মতো এবারো ব্যর্থ হয়েছে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম। চলতি মৌসুমে আট লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হলেও বর্ধিত সময় শেষে সংগ্রহ হয়েছে ৪ লাখ ৩৪ হাজার টন। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর চাল সংগ্রহ হয়েছে ৮৬ শতাংশ। এর প্রভাব পড়েছে সরকারি মজুদেও। গত নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো গত সপ্তাহে সরকারি শস্যভাণ্ডারে চালের মজুদ কমতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে সরকারিভাবে তিন লাখ টন ধান ও পাঁচ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়। ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি কেজি ২৮ টাকা। আর চালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি কেজি ৪২ টাকা। গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল নির্ধারিত সময়সীমা। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হলে ৭ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময় শেষে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ৮১ টন। আর ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৬৯৪ টন। মূলত শুরু থেকেই বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারি দর কম হওয়ায় কৃষকরা স্থানীয় বাজারেই ধান বিক্রি করছেন।
যদিও এ বছর আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সাত লাখ টন বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর বোনা ও রোপা আমন মিলিয়ে মোট ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৭০ লাখ ২৯ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে। যদিও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টন। গড় ফলন হয়েছে প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৮৮ টন।
এর আগে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে বছরে চাহিদার চেয়ে প্রায় ৪২ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকে। উদ্বৃত্ত থাকার পরও চাল আমদানির কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সরকারের ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থতা, পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল আমদানি করতে হয়।
গত বোরো মৌসুমেও সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হলেও এর ৫৯ ভাগই পূরণ হয়নি। যদিও চালের ১১ লাখ টন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। ব্রির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে শুধু শতভাগ ধান-চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকার। এছাড়া ২০১৯ সালে ২১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৩৩ ও ২০২১ সালে ৫৪ শতাংশ ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক মূল্য পর্যালোচনাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত নভেম্বরের পর এই প্রথম চালের সরকারি মজুদ কমতির দিকে রয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারির চেয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৫ শতাংশ মজুদ কমেছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মজুদ কমে দাঁড়ায় প্রায় ১৫ লাখ ৩৭ হাজার টনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালের সরকারি মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৪২৪ টন। যদিও গত বছরের মার্চে চালের মজুদ ১৮ লাখ টনের কাছাকাছি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের ওএমএস কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করায় মজুদ কিছুটা কমছে। তবে উৎপাদন ভালো হওয়ায় আপাতত আমদানির প্রয়োজন হবে না।
চলতি মৌসুমে চাল সংগ্রহের জন্য ৭ হাজার ১০১টি মিলকে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭০ টনের বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে মিলগুলো থেকেও বরাদ্দের সমপরিমাণ চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
খাদ্য অধিদপ্তরের সংগ্রহ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে। কিছু মিল চুক্তি করেনি। আবার কিছু মিল চুক্তি করেও বরাদ্দকৃত চালের সমপরিমাণ জমা দেয়নি। তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ সূত্র: বণিক বার্তা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএ্ফই//



