হজযাত্রীর থেকে অর্থ নেয়ার পর রসিদ দিতে হবে

অষ্টমবারের মতো বাড়ল হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক:  অষ্টমবারের মতো বাড়ানো হয়েছে হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়। বর্ধিত সময় অনুযায়ী, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন হজে যেতে আগ্রহীরা।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখার উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর তথ্য জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, এবার হজ নিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি ধার্যের কারণে পূরণ হচ্ছে না নিবন্ধনের কোটা। যার কারণে একের পর এক সময় বাড়াচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ গতকাল অষ্টমবারের মতো সময় বাড়ানো হলো।

মন্ত্রণালয়ের দেয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হজে যাওয়ার জন্য মোট নিবন্ধন করেছেন মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৫৪ জন। সে হিসেবে এখনো নিবন্ধনের বাকি রয়েছেন ৮ হাজার ২৪৪ জন। এ অবস্থায় ফের নিবন্ধনের সময় বাড়াবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ ৩০ মার্চ সময় বৃদ্ধির আগে মোট নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ জন। অর্থাৎ ৬ দিনে মাত্র ৭৯৪ জন হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনের কোটা পূরণ হতেই সক্রিয়ভাবে হজ নিবন্ধন সার্ভার বন্ধ হয়ে যাবে।

হজ এজেন্সিগুলো বলছে, সৌদি সরকার থেকে পাওয়া নির্ধারিত কোটা পূরণ করে হজযাত্রী পাঠাতে না পারলে আগামীতে এ সংখ্যক কোটা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। তাই কোটা পূরণ করতে এখন বেশ তত্পর মন্ত্রণালয়। সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাওয়ার কথা।

হজ এজেন্সির মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে হজ প্যাকেজের খরচ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। এর মধ্যে দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও হজযাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আগামীতে হজের খরচ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এজেন্সিগুলোর দেয়া তথ্যমতে, গত বছর যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এবার তা ৫৭ হাজার ৭৯৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। বিমান ভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের জন্য বাড়ি ভাড়ার ব্যয়। গত বছর হজ প্যাকেজে বাড়ি ভাড়া ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭ টাকা। এ বছর তা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৪৫ টাকা। গত বছর বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রতি রিয়ালের দাম ২৪ দশমিক ৩ টাকা হিসাব করা হয়েছিল। চলতি বছর তা হিসাব করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৩৯ টাকা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, হজের সময় ৫ দিন ধরে মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফায় হজযাত্রীদের বিভিন্ন পরিষেবা দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে তাঁবুর ব্যবস্থা করা, তাঁবুতে ম্যাট্রেস, বিছানা, চাদর, বালিশ, কম্বল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ ইত্যাদি। এই মুয়াল্লেম সেবা গত বছর ছিল ৬১ হাজার ২৩৬ টাকা। আর এবার মুয়াল্লেম সেবার ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৩০ টাকা। এই এক খাতেই ব্যয় বেড়েছে ৯৯ হাজার টাকা। গত বছর জমজমের পানির দাম ছিল ২৯১ টাকা যা এবার বেড়ে হয়েছে ৪২৫ টাকা। এ ছাড়া চলতি বছর হজযাত্রীদের খাবার খরচ, ভিসা ফি ও হজ গাইড বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে। তবে সৌদি আরবে অবস্থানকালে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে পরিবহন ব্যয় বাবদ গত বছর নেয়া হয়েছিল ৪২ হাজার ৬৩৫ টাকা করে। এবার তা কমে হয়েছে ৩৫ হাজার ১৬২ টাকা। এছাড়া প্রতিজন হাজির স্বাস্থ্যবীমা বাবদ সৌদি সরকারকে আগে দিতে হতো ২ হাজার ৬৭৩ টাকা। এ বছর তা কমে হয়েছে ৯৪৭ টাকা।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)