বান্দরবানে সশস্ত্র দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

বান্দরবানে সশস্ত্র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ৮

বান্দরবান প্রতিনিধি: বান্দরবানে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলা সীমান্তের কাছাকাছি খামতাংপাড়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর প্রাণভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে পাড়াটির ৬৪ পরিবার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের এসপি মো. তারিকুল ইসলাম।

কেএনএফের পক্ষে একটি ফেজবুক পেজ থেকে দাবি করা হয়, গোলাগুলির ঘটনায় নিহত আটজনের মধ্যে সাতজন সাধারণ নাগরিক। তারা হলো ভান দু বম, সাং খুম, সান ফির থাং বম, বয় রেম বম, জাহিম বম, লাল লিয়ান বম, লাল ঠা জার বম। অন্যজনের নাম-পরিচয় অজানা। তবে এসপি জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। শনাক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, রোয়াংছড়ি উপজেলা সদর থেকে রোয়াংছড়ি-রুমা সড়কের প্রায় ১১ কিলোমিটারে খামতাংপাড়া অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ১ ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকালে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটজনের মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরে রোয়াংছড়ি থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো বান্দরবান সদর হাপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক ও কেএনএফ গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের। নিহতদের শরীরে সেনাবাহিনীর মতো এক ধরনের পোশাক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে দুটি গাদা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণভয়ে সব মানুষ পাড়া ছেড়ে চলে অন্যত্র আশ্রয় নেয়ায় খামতাংপাড়া জনশূন্যে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খামতাংপাড়াসংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিক থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে পাড়ার কাছাকাছি স্থানে আবারো গুলির শব্দ শোনা যায়। এর পরই পাড়ার ৬৪টি পরিবারের ২২টি আশ্রয় নিতে রুমা উপজেলা সদরের দিকে গেছে। শিশু-নারী, বয়োবৃদ্ধসহ ১৮৪ জন এসে আশ্রয় নিয়েছে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এ বিষয়ে বান্দরবান নো জোনের ক্যাপ্টেন ফাহিম মাহমুদ বিনতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌খামতাংপাড়া ও তার পার্শবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। ওইসব এলাকায় কেএনএফের উৎপাত ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে থাকতে না পেরে খামতাংপাড়া থেকে অনেকে আশ্রয় নেয়ার জন্য আমাদের রোয়াংছড়ি ক্যাম্পে চলে এসেছেন।

গতকাল খামতাংপাড়া থেকে পালিয়ে আসা স্থানীয়দের সেনাবাহিনী মানবিক সহযোগিতা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোংয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‌আশ্রয় নেয়া পাড়াবাসীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও খাবার পানি, কম্বল, শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

বিনিয়োগবার্তা/এমআর/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)