জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন ১ জুন
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে আগামী ১ জুন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কবিরুল ইজদানী খানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি এ-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব সম্পাদনসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নতুন বাজেটের আকার হবে ৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল বাজেট ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধন করে কিছুটা কমানো হয়।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা হতে পারে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশ ঘাটতি থাকবে আগামী বাজেটে। টাকার অংকে এর পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত এপ্রিলে আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিলের ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় বৈঠক ও সম্পদ কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে বাজেট চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তা কিছুটা কমতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। তবে ঋণ পাওয়ার শর্ত হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের কথা বলছে সংস্থাটি। এক্ষেত্রে বৈশ্বিক পর্যায়ে পরবর্তী মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি চলাকালীন এসব ভর্তুকির পরিমাণ আর বাড়াবে না বলে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা স্কিম বিস্তৃত করার সময়ও ভর্তুকির পরিমাণ ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার সুযোগ খুঁজবে বলেও আইএমএফকে জানানো হয়েছে। এর পরও আগামী বাজেটে ভর্তুকি বাবদ ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ থাকবে বলে জানা গেছে।
আইএমএফের শর্তানুসারে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশকে কর-জিডিপির অনুপাত দশমিক ৫ শতাংশ বাড়াতে হবে। তাই নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) সংগ্রহ করতে হবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
দেশের বিদ্যমান সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট, বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি ও আসন্ন মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ কমে যাওয়া, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন—সব মিলিয়ে কঠিন এক পরিস্থিতিতে নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সদ্যসমাপ্ত আইএমএফ মিশন শেষে রাহুল আনন্দের বিবৃতিতেও দেশের এ সংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই/এসএএম//



