বন অধিদফতরের হৈমন্তী হলে পরিবেশমন্ত্রী

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিবেদিতভাবে কাজ করছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেছেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিবেদিতভাবে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে জাতিসংঘের ‘কনভেনশন অন বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটি’-তে স্বাক্ষর করেছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও এর উপাদানসমূহের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে 'বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন- ২০১৭' প্রণয়ন করা হয়েছে। 

সোমবার (২২ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন অধিদফতরের হৈমন্তী হলে ‘আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস-২০২৩’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

মো. শাহাবউদ্দিন বলেন, আমরা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও ঔষধ প্রভৃতির জন্য সরাসরি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মূলত জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা প্রকৃতি থেকে মেটাতে সক্ষম হয়। এছাড়া পরিবারের দূষণরোধ করতে, অক্সিজেনের সরবরাহ বজায় রাখতে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের জন্য জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা অপরিহার্য। মোটকথা যেকোনো দেশের জীববৈচিত্র্য সেই দেশের মূল সম্পদ।

তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর অবাধে বিচরণ ও প্রজননের জন্য এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, ২০টি জাতীয় উদ্যান, ২টি বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা, ২টি মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া, ১টি উদ্ভিদ উদ্যান, ৩টি ইকোপার্ক এবং ২টি শকুন নিরাপদ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সিলেট অঞ্চলে অবস্থিত জলাভূমির বন রাতারগুল ও নওগাঁর আলতাদিঘীকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও দেশে ২টি রামসার সাইট ও ৬টি ফ্লাইওয়ে সাইট রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অপরাধের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। সে লক্ষ্যে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী ক্রয়-বিক্রয়, শিকার/হত্যা, পাচারজনিত অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের লক্ষ্যে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। 

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, জীববৈচিত্র্যের অন্যতম উপাদান উদ্ভিদ কিংবা প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর নেমে আসবে চরম বিপর্যয়। জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হলে বিপর্যস্ত হবে মানবসভ্যতাও। তাই আমাদের নিজেদের স্বার্থেই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অগ্রণী হতে হবে। সুতরাং জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে আরো কার্যকরী ও গতিশীল করতে সবাইকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ প্রমুখ।

বিনিয়োগবার্তা/এনএএস//


Comment As:

Comment (0)