বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ: ঢাকার সঙ্গে দূরত্ব কমবে ১১২ কিমি
সারাদেশ ডেস্ক: বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার ভিতরে রেলপথ সংযোগের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে এইরকম একধাপ এগিয়ে গেলো। চিত্র প্রণয়ন শেষে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জুনে শুরু হচ্ছে রেলপথের উভয়পাশের জমি অধিগ্রহণ। এর জন্য ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে রোববার (২৮ মে) প্রভাতকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকল্পটির সার্বিক ব্যপারে এক বৈঠক শেষে এসব তথ্য বলা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, রেলসড়কটি গঠন হলে ঢাকার সাথে বগুড়ার ১১২ কিলোমিটার পথ কমে যায় যাওয়ার সঙ্গে টাইম বেঁচে যাবে প্রায় ৪ ঘণ্টা।
বৈঠকে ছিলেন, বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ মেম্বার রাগেবুল আহসান রিপু, জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী, বগুড়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান সফিক, রেল কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী বলেন, প্রকল্পটির নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। দ্রুত সময়ে প্রকল্পের কাজ চালু হবে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের জন্য ৯৬০ একর কৃষিখেত অধিগ্রহণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। রেলপথের ডুয়েল গেজের জন্য এসব কৃষিখেত অধিগ্রহণ করা হবে। শুরুতে ডুয়েল গেজ লাইন তার সাথে পরবর্তীতে ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল করবে।
মনিরুল ইসলাম এইরকম বলেন, এ রেলপথে মোট ৯টি স্টেশন জয়েন হবে। এগুলো হচ্ছে এম মনসুর আলী স্টেশন, রায়পুর স্টেশন, নলকা কৃঞ্চদিয়া স্টেশন, চান্দাইকোনা স্টেশন, রায়গঞ্জ স্টেশন, ছোনকা স্টেশন, শেরপুর স্টেশন, আড়িয়া বাজার স্টেশন ও রানিরহাট স্টেশন। এর ভিতরে মনসুর আলী স্টেশনে তিনটি দুটি রাস্তার মিলনস্থান তৈরি হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত আরও তিন কিলোমিটার রেলপথ প্রস্তুত করায় ট্রেনগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু লঙ্ঘন হয়ে সারা দেশের সাথে চলাচল করবে। এসব স্টেশনের বাইরে বগুড়ার কাহালুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে রেলপথের। বর্তমানে বগুড়া থেকে ট্রেনে সিরাজগঞ্জ যেতে সান্তাহার জংশন, নাটোর ও ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার বহু রাস্তা ঘুরতে হয়। নিউ রেলপথ গঠন হলে দূরত্ব কমে যায় যাবে প্রায় ১২২ কিলোমিটার।
বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ। এরই ভিতরে কৃষিখেত অধিগ্রহণের যেসব কার্যক্রম তা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যে এইরকম বিস্তার হবে। সময়, খরচ ও দূরত্ব টাইমের মধ্যে লোক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শপথ মতে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ দ্রুত সময়ের ভিতরে গঠন হবে। বগুড়ার উন্নয়নে কোনো কমতি থাকবে না। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে সব ধরনের কাজ করা হবে। এ কাজ সমাপ্ত হলে বগুড়ার উন্নতি দ্রুত হবে।
প্রকল্প অফিসার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রশাসক গোষ্ঠী ও ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) যৌথ অর্থায়নে এ রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। ২০২৬ সালে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে। রেলপথ নির্মাণে প্রাইমারি সম্ভাব্য খরচা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও তা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলা পরিস্থিতিতে বাড়তে পারে। দুই জেলায় মোট ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। এর ভিতরে বগুড়া অংশে প্রায় ৫০০ একর ও সিরাজগঞ্জ ভাগে ৪৬০ একর।
জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকার এরই মধ্যে ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিমূর্তি তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দুটি রেলপথ নির্মাণ হবে। বগুড়া রেললাইন থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার এবং অপরটি বগুড়ার কাহালু স্টেশন হতে রানিরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার গঠন করা হবে।
বিনিয়োগবার্তা/টিআর//



