এফআইসিসিআই

নতুন আয়কর বিধান নিয়ে এফআইসিসিআইয়ের উদ্বেগ

​​​​​​​প্রস্তাবিত বাজেটে খসড়া আয়কর আইনের আরো পর্যালোচনা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট এবং আয়কর আইন (আইটিএ) ২০২৩-এর খসড়ার কিছু অংশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)। প্রস্তাবিত বাজেট বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক নয়। একইসঙ্গে নতুন আয়কর বিধানে ব্যবসা খাত ও এর কর্মীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও জানায় সংগঠনটি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য বড় বরাদ্দের প্রশংসা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অপ্রতুলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এফআইসিসিআই। সংস্থাটি মনে করে, খসড়া আয়কর আইনের (আইটিএ) আরো পর্যালোচনা প্রয়োজন। কারণ এ আইনের কিছু বিধান আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর বিবেচনায় অযৌক্তিক। নতুন আইনে ন্যূনতম কর বিধানগুলো ধীরে ধীরে প্রত্যাহার না করে সেগুলো উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যার ফলে কোমল পানীয়র দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি বাড়বে। এ খাতে এরই মধ্যে ৫ থেকে ১০ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি পরোক্ষ কর (এসডি ও ভ্যাট) ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ দিতে হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তাই এ শিল্পের বিকাশের সুযোগ দিতে সরকারকে ন্যূনতম কর ১ শতাংশ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, প্রণোদনা বোনাস অতিরিক্ত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি কোম্পানির ওপর আরো করের বোঝা চাপিয়ে দেবে এবং পরবর্তী সময়ে কর্মীদের উপার্জনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যবসায়িক ক্ষতির বিপরীতে অন্য আয় সচল রাখার অনুমতি না দেয়া করের চেতনার বিরুদ্ধে যায়। পাশাপাশি বিদেশী ঋণের সুদের ওপর করের বিধান এবং তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতার দ্বারা আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রমাণ দেয়ার ব্যর্থতার জন্য তার সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দিতে অনুমোদন দেয়ার বিধানটি বাদ দেয়া উচিত। করপোরেট ও সংস্থাগুলোর জন্য নগদ লেনদেন সীমিত করা দেশের উন্নয়নকে সীমাবদ্ধ করবে।

সংগঠনটি জানায়, খসড়া আয়কর আইন (আইটিএ) অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে ডব্লিউপিপিএফ, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডিভিডেন্ড থেকে আয়ের ওপর আর কোনো ছাড় পাবেন না। লিভ ফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স (এলএফএ) এখন থেকে করের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা আদৌ বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে কিনা এবং সেটা থেকে কর ছাড় পাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়টি পরিষ্কার করে বলা নেই। মিউচুয়াল ফান্ড/ইউনিট তহবিল ও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সীমা ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেঁধে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। বেসরকারি স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে কর আরোপ করা কর্মীদের আয় হ্রাস করবে এবং সরকারি ভবিষ্য তহবিলকে করমুক্ত হিসাবে রাখার বিষয়টি বৈষম্য সৃষ্টি করবে।

এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘নতুন আয়কর আইনের কিছু বিধান বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা এবং ব্যক্তির প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত ভ্যাট এবং লোকসানে থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর করের বোঝা বাড়ার কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেট বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক নয়। একজন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার আগে চিন্তা করেন তার লাভের বিষয়টি। আমরা সরকারকে অনুরোধ করছি করহার কমিয়ে করের আওতা বাড়ানোর জন্য।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)