১১তম ইনটেক্স বাংলাদেশ ট্রেড এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি
উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিকারক হিসাবে বিশ্বে অবস্থান আরও উন্নত করতে চায় বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থানকে আরও উন্নত করার রূপকল্প অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, “আমরা পোশাক শিল্পের সকল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন এবং পরিমান ভিত্তিক (ভলিউম) উৎপাদন থেকে উচ্চমূল্যের পোশাক এবং মূল্য সংযোজনে একটি কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে শিল্পকে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রতিটি সুযোগ অনুসন্ধান করছি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারে গভীরভাবে আশাবাদী।”
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ঢাকায় ওয়ার্ল্ডএক্স ইন্ডিয়া (Worldex India) আয়োজিত ১১তম ইনটেক্স বাংলাদেশ ট্রেড এক্সপো’র (Intex Bangladesh Trade Expo) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত পোশাক ও বস্ত্র বাণিজ্যে একে অপরের পরিপূরক হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা উচ্চমূল্যের পোশাক, বিশেষ করে ম্যান-মেইড ফাইবার এবং টেকনিক্যাল টেক্সটাইল থেকে পোশাক তৈরিতে শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, শিল্পসংগঠন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি। এছাড়াও বাংলাদেশকে রিসাইক্লিংয়ের বৈশ্বিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে চলেছি।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা ফ্যাশনের সাথে বাংলাদেশের সমৃদ্ধময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যুক্ত করেফ্যাশনেবল পোশাক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। সরকারের সহায়তায় বিজিএমই এ বাংলাদেশী ফ্যাশন ডিজাইনার, উদ্ভাবকএবং স্থানীয় তাঁতীদের আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী টেক্সটাইলকে যুক্ত করে (ফিউশন) পোশাক তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে, যাতে করে তারা মসলিন, জামদানি, খাদি, সিল্ক, মনিপুরি ইত্যাদির মতো দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী ব্যবহার করেফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করতে পারে।”
তিনি বলেন,পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি, কাঁচামাল সরবরাহ, জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময় অন্তর্ভূক্ত করা হলে বাংলাদেশ ও ভারত, উভয় দেশই ব্যবসায়িকভাবে উপকৃত হবে।
তিনি ভারতের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের নন-কটন টেক্সটাইল শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করার আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পোশাক শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য নন-কটন পোশাক তৈরিতে সক্ষমতা অর্জনের বিষয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিযে যাচ্ছে।
ফারুক হাসান আরও বলেন, আমাদের সম্পর্ক প্রতিযোগিতামূলক নয়, বরং পরিপূরক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি, বাংলাদেশ নিট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ); রাজেশভগত, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ওয়ার্ল্ডএক্স ইন্ডিয়া; সুনীল পাটওয়ারি, চেয়ারম্যান, কটন টেক্সটাইলস এক্সপোর্ট প্রমোশনকাউন্সিল (টেক্সপ্রোসিল) এবং পাওয়ারলুম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট প্রমোশনকাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মহেশ এন সানিল।
বিনিয়োগবার্তা/কেএইচকে/এসএএম//



