পোশাক খাতের ‘নজরদারিতে’ অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের দরকার নেই: বানিজ্যমন্ত্রী

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: পোশাক খাতের ‘নজরদারিতে’ নিয়োজিত দুটি প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে দরকার নাই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহামেদ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র কার্যালয়ের অ্যাপারেল ক্লাবে ‘ডিজিটাল আরএমজি ফ্যাক্টরি ম্যাপিং ইন বাংলাদেশ (ডিআরএফএম-বি)’ শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, তাদের কথামতো গার্মেন্টস শিল্প কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। তারা তো পোশাকের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলে না। এখন তারা থাকতে চায় শ্রমিকের অধিকার আদায়ের জন্য। শ্রমিকের অধিকার আদায়ে শ্রম মন্ত্রণালয় আছে, দেশে আইন আছে, তাদের প্রয়োজন নেই। তারা যে কটি গার্মেন্টসে সমস্যা দেখেছে তা মোট পোশাক কারখানার ২ শতাংশ। এখন তারা আরও থাকতে চাচ্ছে এটা হবে না। তাদের এ সংগঠন কোনো দেশে নেই, আমাদের দেশে কেন থাকবে।

দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে তোফায়েল বলেন, রেডিমেড গার্মেন্টস অনেক ভালো কাজ করছে। আমরা এখন বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে। গার্মেন্ট শিল্প কারখানা এখন অনেক উন্নত হচ্ছে। কিন্তু পোশাকের দাম তো বাড়ছে না। তারা কি ন্যায্য দাম পায়।

মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে ১০ হাজারের মতো বেতন পায় সব মিলিয়ে। কিন্তু এসব প্রচার হচ্ছে না। গার্মেন্ট শিল্প সম্পর্কে অহেতুক অপপ্রচার হচ্ছে। এ সময় শ্রমিক নেতাদের বিদেশে এ শিল্প সম্পর্কে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

রাজধানীতে বৃষ্টির পানি জমে থাকাকে বন্যার সঙ্গে তুলনা করে তোফায়েল বলেন, শহরে বন্যা হওয়ায় আমরা দুঃখিত। আগামীতে যেন না হয় সে পদক্ষেপ নিতে হবে। জলজট থেকে রক্ষার জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামে মেগা প্রজেক্ট নিতে হবে। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। এটাই হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের কাজ।

বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পোশাক শিল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এতো ভালো কাজ করছি, কিন্তু সেগুলো উঠে আসছে না। পোশাক শিল্প ও শ্রমিকের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

ডিআরএফএম-বি প্রকল্পের পরিচালক পারভীন সুলতানা হুদা জানান, ডিআরএফএম-বি শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে দেশের সব পোশাক কারখানার সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল মানচিত্র করা হবে। সেটিকে গুগল ম্যাপে সংযুক্ত করা হবে। এ ছাড়া প্রতিটি কারখানার বিস্তারিত তথ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, শ্রমিক সংখ্যা, কোন ধরনের পণ্য তৈরি হয়, কারখানা ভবনের ধরন, নিকটবর্তী হাসপাতাল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি নেই ইত্যাদি তথ্য থাকবে।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৈয়দ সাদ আন্দালিব, সিঅ্যান্ডএ বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক শান্তনু সিনহা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্রের (সিইডি) উপদেষ্টা রহিম বি তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

(এসএএম/ ৩০ জুলাই ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)