নরসিংদীতে কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে তিনগুণ

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে নরসিংদীর কাঁচা বাজারগুলোতে। বৃষ্টিতে অনেক সবজি জমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় এবং অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সবজি উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য জেলা হলেও নরসিংদীবাসীকে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিগুন আবার কোন কোন সবজি তিনগুণ মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার অজুহাত দেখিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার সকালে নরসিংদী বাজার, বাঁশবাজার, ভেলানগর বাজার, বৌবাজার সঙ্গীতা বাজারসহ নরসিংদী শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি বেগুণ ৩০/৪০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা, শশা ২০/৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, করলা ২০/৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ২০/২৫ টাকা বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঝিঙা ২০/৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পটল ২০/৩০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩০/৪০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, কাচামরিচ ৬০/৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ১০/২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি (মিডিয়াম সাইজ) ২০/৩০টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গাজর ২০/৩০টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৩০ টাকা বেড়ে টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, পুঁইশাক প্রতি আটি ১০ টাকা বেড়ে ২০ টাকা।

নরসিংদী কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা হারুণ অর রশিদ জানান, মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সবজির বাজারে যে এতোটা আগুন লাগবে তা বুঝতে পারিনি। তিনি বলেন ,‘যে কাঁকরোল আমাদের গ্রামে মাসখানেক আগেও চাষীরা ক্ষেত থেকে তুলতে চাইতো না কারণ বাজারে নিলে নাকি ৩ শ থেকে সাড়ে ৩ শ টাকার মনের উপড়ে বিক্রি করতে পারতো না সেই কাঁকরোলই আজ আমি ৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি।’

ভেলানগর বাজারে কথায় ইমাম হোসেন নামে এক চাকুরীজীবির সাথে তিনি বলেন,‘ বাসা থেকে আসার সময় স্ত্রী কচুর লতির কথা বলে দিয়েছে, যে লতি আমি গত কয়েকদিন আগে ৩০ টাকা দিয়ে কিনেছিলাম তা আজ কিনতে হয়েছে ৬০ টাকা দিয়ে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে যদি এতটা দাম বাড়ে তাহলে বাজারে আসাটাই মুশকিল হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, দিন দিন সবজির বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

আরো কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের দাম এখন বেশি। সাধারণ মানুষকে নিত্যদিনের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। বাজারে কোনো পণ্য সর্বোচ্চ কত দামে বিক্রি করা যাবে সে ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা। এজন্য বাজারগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা দরকার বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

হঠাৎ দাম বাড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একই বাজারের বিক্রেতা সামাদ মিয়া বলেন, এখন বর্ষার মৌসুম। এ সময় সবজির উৎপাদন কম হয়। এ কারণে দাম বেশি।
শিবপুর এলাকার এক সবজি চাষীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন,‘ বাবা গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আমাগো সব জমি ডুবাইয়া পালাইছে। ক্ষেতে পানি জমইমা থাকলে গাছে গোড়া তো এমনি এমনিই পইচ্ছা যায়। তহন ফসল অইব কইতে।’ অহন যাকো ক্ষেত গুলা একটু উচু শুধু হেগো ক্ষেতেই ফসল অইতাছে। আর হেরাতো অহন একটু দামে বেচবোই। এজন্য সবজির দাম বাড়তি।’

(এসএইচআর/ এসএএম/ ০৫ আগস্ট ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)