কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদীতে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করণ চলছে

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন নরসিংদীর খামারি ও কৃষকেরা। দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করণ করায় এই অঞ্চলের গরুর চাহিদাও অনেক বেশি। এবার বাজারে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া যদি ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ থাকে তাহলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন বলে আশায় বুক বেঁধে আছেন অনেকেই।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, পরম যত্নে গরুগুলোর প্রতিনিয়ত দেখভাল করছেন খামারিরা। কারণ কোরবানির হাটে যে গরু দেখতে যতো আকর্ষণীয় হবে, তার দামও হবে ততো বেশি। তাই গরুর খাদ্য তালিকাটাও বেশ সমৃদ্ধ দেখা গেছে।

অন্য অসাধু গরু ব্যবসায়ীদের মতো কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন না এখানকার খামারি ও কৃষকরা।

তারা মানুষকে দেশি গরুর স্বাদ দিতে চান। এ জন্য দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈল, ছোলা ও ভূষি খাওয়াচ্ছেন গরুকে।

খামারিরা জানান, বাজারে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বেশীর ভাগ খামারে দেখা গেছে দেশীয় জাতের গরুই বেশি। বিগত বছর লাভের আশায় গরু পালন করলেও, বাজারে ভারতীয় গরু থাকায়, লোকসানের মুখে পড়েন বলে অভিযোগ খামারিদের।

তবে, এ বছর কোরবানি ঈদে ভারত থেকে অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ থাকলে লাভবান হবেন বলে জানান তারা।

পলাশের আপেল মিয়া জানান, কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে আরও প্রায় ৬ মাস আগে বিভিন্ন বাজার থেকে ১০টি  গরু কিনেছেন তিনি। এখন গরুগুলো আগের চেয়ে অনেক মোটাতাজা হয়েছে। তিন জানান, সম্পূর্ন খড়কুটো আর কাঁচা ঘাস খাইয়ে গরুগুলোকে  লালন পালন করছেন তিনি।

নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আ. ছামাদ মিয়া জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলায় ছোট বড় ১৫ হাজার ৫৭৫ জন খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে ৪৬ হাজার ৮৬০টি পশু মোটাতাজা করছেন। খামারি ও কৃষকরা যাতে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক ব্যবহার না করে সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

(এসএএম/ ২১ আগস্ট ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)