ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন নরসিংদীর কামাররা
মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, বিনিয়োগবার্তা, নরসিংদী: কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে নরসিংদীর কামাররা। নাওয়া খাওয়া ভুলে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। তবে এখনো পুরোদমে বিক্রি শুরু না হলেও চলছে দিন-রাত টুং-টাং শব্দে কাজ। এছাড়া কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্য বারের চেয়ে এবারে দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতির দাম কিছুটা বেশি বলে জানান তারা।
আর মাত্র ৭ দিন বাদেই আসছে কোরবানির ঈদ। যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। সামনে আগুনরে শিখায়-তাপদেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বটিঁ, চাপাতি ও ছুরি। পশু কোরবানিতে এসব অতিব প্রয়োজনীয়।
নতুন তৈরির সঙ্গে শহর ও গ্রাম-গঞ্জে সবজায়গায় কামাররা সমান ব্যস্ত পুরোনো দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শাণ দিতে। আবার মোটর চালিত মেশিনে শান দেয়ার কাজও চলছে। তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। তবে কয়লার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কিছুটা বেশি দামেই কিনতে হবে এগুলো।
নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানিদাতারা কোরবানির
পশু কাঁটাছেড়া করার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত দা-বটি ও ছুরি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। এর ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমী কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে।
নরসিংদী বাজারের গেঞ্জিপট্টি এলাকার সুনিল কর্মকার জানান, সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে দা-বটিঁ ও ছুরি তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম। এ ছাড়াও লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৫০০ টাকা, নরমাল ৩০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২০০ থেকে ৪০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে শুরু, চাপাতি ৫০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।
নরসিংদী পাতিল বাড়ী রোড়ের দুলাল কর্মকার বলেন, বছরের ১১ মাসে ব্যবসা হয় এক রকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। কোরবানীর ঈদ আসলে আমাদের কামারের দোকানদারদের বেচা-বিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে দাম এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও প্রভাব পড়েনি ক্রেতাদের মাঝে। অনেকেই স্বাভাবিক ভাবেই নিচ্ছে দাম বাড়ার বিষয়টিকে।
নরসিংদী বাজারের ধাড়ি পট্টিতে দা-বটির দোকানী শংকর কর্মকার জানান, একসময় কামারের কাজ করেই পেট চালাতাম। কিন্তু নরসিংদী বাজারে কামারের দোকান তেমন একটা চলেনা। এক সময় কামারদের কদর ছিল এখন তা আর নেই। এখন মেশিনের সাহয্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ হারাচ্ছে। হয়তোবা এক সময় এই পেশা আর থাকবেনা।
শিবপুর বাজারের কামার শিল্পী গৌরাঙ্গ বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এ কাজ করে আসছেন সেই সুবাধে আমি এ কাজ করি। সারা বছর তেমন কাজ কাম না থাকলেও কুরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়। এখনো খুচরা বিক্রি তেমন ভাবে শুরু হয়নি, ঈদের ২-৩দিন আগে থেকে খুচরা বিক্রির ধুম পরে যায়। মানুষ কুরবানির পশু কেনার পরে দা, বটি কিনে। এখন আমরা বেপারির অর্ডারের যন্ত্রপাতি তৈরি করে সরবরাহ করছি ।
(এসএইচআর/এসএএম/ ২৬ আগস্ট ২০১৭)



