৬ মাসে সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ৩২৬ কোটি টাকা

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: এ বছরের প্রথম ৬ মাস জানুয়ারি থেকে জুনে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলো ৩২৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর বড় অংশই গেছে শিক্ষা খাতে। বাকি অর্থ গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি খাতে।

সিএসআরে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক।

এ ছাড়া ব্যাংকের বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে মাত্র ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছরই তাদের মুনাফার অংশ থেকে সিএসআর খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে অনুদান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে ২৪টি ব্যাংক সিএসআর নীতিমালার মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করেছে। ৪০টি ব্যাংক পৃথক বিভাগ ও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সিএসআর খাতে সর্বাধিক ৫৯ কোটি টাকা খরচ করেছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির সিএসআরের সিংহভাগ অর্থই গেছে শিক্ষা খাতে।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে ৪৪ কোটি টাকা, যার ৭০ শতাংশই শিক্ষাবৃত্তি খাতে।

বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংক ছয় মাসে ব্যয় করেছে ৩১ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংক ব্যয় করেছে ১৬ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংক ১৫ কোটি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে শিক্ষা খাতে ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ২০ শতাংশ এবং জলবায়ু তহবিল খাতে ১০ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত মুনাফার অংশ থেকেই সিএসআর খাতে ব্যয় করা হয়। নিয়ম মেনে কয়েকটি ব্যাংক অর্থ ব্যয় করলেও বেশির ভাগই পরিচালকদের ইচ্ছেমতো ব্যয় করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিচালকদের এলাকা বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

এ বছরে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৫টি সিএসআর খাতে কোনো ব্যয় করতে পারেনি। সেগুলো হলো রূপালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ও উরি ব্যাংক।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান বলেন, ব্যাংকগুলো সামাজিক দায়িত্ব থেকেই সিএসআর খাতে ব্যয় করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু খাত চিহ্নিত করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর অনুদান বাড়ছে।

(এম আর / এসএএম/ ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)