তৈরি পোশাক ক্রেতাদের পছন্দে বাংলাদেশের আকর্ষণ অব্যাহত থাকবে: ম্যাকেঞ্জি

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: আগামী ৫ বছর তৈরি পোশাকে বিদেশি ব্র্যান্ড এবং খুচরা ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের আকর্ষণ অব্যাহত থাকবে। প্রতিযোগিতামূলক দর এবং বিশ্ববাজারে প্রধান প্রতিযোগী চীনের অংশ কমে আসায় বাংলাদেশের আকর্ষণ কমবে না ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ম্যাকেঞ্জি।

বিভিম্ন দেশের ৬৩টি বিখ্যাত ব্র্যান্ড এবং খুচরা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্রয় কর্মকর্তাদের (সিপিও) সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

দ্য অ্যাপারেল সোর্সিং ক্যারাভানস নেক্সট স্টপ :ডিজিটাইজেশন’ শীর্ষক এই জরিপে অংশ নেওয়া ব্র্যান্ডগুলোর প্রধান ক্রয় কর্মকর্তাদের অর্ধেকেই মনে করেন, আগামী ৫ বছর পর্যন্ত ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের আকর্ষণ অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তাদের ৪৯ শতাংশ মনে করেন, এখনও তাদের কাছে তৈরি পোশাকের উৎস দেশ হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম পছন্দ।

রফতানিকারক ৫ দেশের তালিকায় ভিয়েতনামকে অনেক পেছনে রাখা হয়েছে। মাত্র ৩৫ শতাংশ কর্মকর্তা তাদের পছন্দের দেশ হিসেবে ভিয়েতনামের কথা বলেছেন। সবচেয়ে পেছনে রয়েছে ভারতের অবস্থান। ২২ শতাংশ কর্মকর্তা ভারতকে নিয়ে তাদের পছন্দের কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পর দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে ইথিওপিয়ার নাম উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া এরকম কর্মকর্তার সংখ্যা ৪৩ শতাংশ। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার। ৩৭ শতাংশ কর্মকর্তা আমদানি উৎস হিসেবে মিয়ানমারকে পছন্দ করেছেন।

বিজিএমই’র নেতারা মনে করেন, মহাসড়ক, বন্দর, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা দেওয়া হলে বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া কোনো দেশের পক্ষেই সহজ হবে না।

বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৮১ ভাগই আসে তৈরি পোশাক থেকে। গত অর্থবছরে এ খাতে রফতানির আয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৮১৫ কোটি ডলার। ২০২১ সাল নাগাদ এ খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরিপে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কর্মকর্তাই চীন থেকে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ বাজার চাহিদা এবং মজুরি বেড়ে যাওয়ার কারণে পোশাক রফতানি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে আসছে চীন। তবে পরিমাণে বেশি রফতানির কারণে চীন এখনও ক্রেতাদের কাছে অপরিহার্য নাম।

ম্যাকেঞ্জির জরিপে ছোট এবং মাঝারি আকারের ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৩৯ শতাংশ কর্মকর্তা পূর্ব ইউরোপের বিভিম্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং উত্তর আমেরিকার দেশ থেকে আমদানি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

(এসএএম/২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)