৮ বীমা কোম্পানির ১১০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: সাধারণ বীমা ব্যবসায় পুনঃবীমা ও এজেন্ট কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ধার্য থাকলেও তা পরিশোধ করছে না বীমা কোম্পানিগুলো।
দেশের বীমা খাতের শীর্ষ ৮ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১১০ কোটি ১৬ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স,
রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স,
প্রগতি ইন্স্যুরেন্স,
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স,
ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স,
ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স,
রূপালী ইন্স্যুরেন্স ও
সাধারণ বীমা করপোরেশন।
এর মধ্যে পুনঃবীমার কমিশন বাবদ ৬৬ কোটি ৭৩ লাখ ও এজেন্ট কমিশনের ওপর ৪৩ লাখ ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকির অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। যদিও এজেন্ট কমিশন নিয়ে বিভিন্ন বীমা কোম্পানির মামলা এখনো সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) বিশেষ নিরীক্ষায় পুনঃবীমায় ২০১৩-১৬ সাল পর্যন্ত চার বছরে এবং এজেন্ট কমিশনে ২০১৬ সালে এ অর্থ পরিশোধ না করার তথ্য উঠে এসেছে। অপরিশোধিত অর্থ এনবিআরে জমা দিতে কোম্পানিগুলোকে ১৫ দিনের সময় দিয়ে গতকাল একটি কারণ দর্শানোর নোটিসও দিয়েছে এলটিইউ। এনবিআরের দাবিনামার বিরুদ্ধে শুনানিতে অংশ নিতে আগ্রহী হলে এ সময়ের মধ্যেই লিখিত আকারে জানানোর কথাও বলেছে এনবিআর।
এনবিআর বলছে, মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ২(ভ) ধারা অনুযায়ী করযোগ্য সেবা প্রদানকারী কর্তৃক প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে ভ্যাট ব্যতীত কমিশন ও চার্জ কোম্পানির সর্বমোট প্রাপ্তি বা আয় হিসেবে গণ্য। একই আইনের ৫ ধারার ৪ উপধারা অনুযায়ী উক্ত সেবায় মোট প্রাপ্তির ওপর ভ্যাট ধার্য হবে। অন্যদিকে একই আইনের ১৪ ধারা বলে বিভিন্ন কমিশনকে অব্যাহতি দেয়া হলেও তাতে বীমার এজেন্ট কমিশন ও পুনঃবীমা বাবদ প্রাপ্ত কমিশনকে যুক্ত করা হয়নি। ফলে এ ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য হবে।
(এম আর / ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭)



