কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ৩ দিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শুরু
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, কুষ্টিয়া: সুর সাধক লালন ফকিরের ১২৭তম তিরোধান দিবস আজ সোমবার। এ উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউরিয়ায় ৩ দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব মেলা শুরু হয়েছে। দিবসটিকে ঘিরে ফকির লালন শাহের মাজারকে সাজানো হয়েছে নানান সাজে। বিশাল তোরণ, প্রধান ফটকে নানা রঙের আলোকসজ্জা।
উৎসবকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মঞ্চ তৈরিসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন চলছে আলোক সজ্জা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। দেশি-বিদেশী ভক্ত, দর্শনার্থী, সাধক ও আয়োজকদের নিরাপত্তা রক্ষায় এবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ চারস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শনার্থীদের উৎসব স্থলের প্রবেশ গেটে মেটাল ডিটেকরের মাধ্যমে তল্লাশীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছেউড়িয়ায় লালনের আখড়া বাড়ি মানেই যেনো সুর সাধনার এক অন্য পৃথিবী। বছর ঘুরে আবারো লালনের তিরোধান দিবস উপলক্ষে সেজে উঠছে গোটা এলাকা। দূর দূরান্ত থেকে আগত লালন ভক্ত ও ফকির সাধকরা আসতে শুরু করেছে।
আলোচনা মঞ্চের চারপাশ লালন মাজারের প্রধান রাস্তা জুড়ে বসেছে গ্রামীণমেলা। মেলায় নানা রকম গৃহসামগ্রী, কাঠের তৈরি সাংসারিক জিনিসপত্র, গরম জিলাপি, পাঁপড় ভাজা, লালন গীতির গানের সিডি, খই-বাতাসাসহ হরেক রকম পসরা নিয়ে ইতোমধ্যেই বসে গেছে দোকানীরা।
দর্শনার্থী আর ফকির-বাউলদের জন্য আলোচনা মঞ্চের পাশেই স্থাপিত হয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। মাজারের ভেতরে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার পর বাউল-সাধু-ফকিরদের জন্য পাতলা চট বিছিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমীর সভাপতি মো. জহির রায়হান জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত লালন উৎসব ও মেলায় নিতে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত এসেছেন। তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উৎসবকে সফল করতে লালন একাডেমীর মূল মাজারকে আলোকসজ্জাসহ অনুষ্ঠানস্থলে মঞ্চ নির্মাণ, বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা, আগত ভক্ত, বাউলদের জন্য তিন বেলা পূর্ণ সেবা ও অধিবাসের জন্য খাবারের ব্যবস্থা এবং রাতভর লালন মঞ্চে সংগীতানুষ্ঠান ও আলোচনা সভার সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
(এমএ/এসএএম/ ১৬ অক্টোবর ২০১৭)



