সঞ্চয়পত্র বিক্রির স্বাভাবিক গতি ফিরে এসেছে
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: কিছুদিন আগেও সঞ্চয়কারীরা সঞ্চয়পত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। অস্বাভাবিকভাবে বিক্রি হচ্ছিল সঞ্চয়পত্র। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। সরকারও এই খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বর মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে তিন হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এ খাত থেকে এটিই সরকারের সবচেয়ে কম ঋণ গ্রহণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে তিন হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। আর প্রথম মাস জুলাইয়ে ঋণ নিয়েছিল পাঁচ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে, সরকার জুলাই মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ কমিয়েছে এক হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘এখন যে গতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে, এটাই স্বাভাবিক গতি।’
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘সঞ্চয়পত্র কেনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপের কথা শোনা যাচ্ছে। এ কারণে এটি বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।’ তিনি মনে করেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমা সরকারের জন্য ইতিবাচক হবে। এতে সরকারের ওপর থেকে উচ্চ সুদের বোঝা কিছুটা কমে আসবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে গত মে মাসে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্য সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে। সুদের হার কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে অনেকেই অর্থবছরের শেষদিকে এসে সঞ্চয়পত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এমনকি চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও রেকর্ড পরিমাণ সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নিয়েছিল তিন হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা। তার আগের দুই মাস আগস্ট ও জুলাইয়ে ঋণ ছিল যথাক্রমে চার হাজার ২৯৭ কোটি ও তিন হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয় ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এরমধ্যে শেষ মাস জুনে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ঋণ নেয় পাঁচ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।
(এএইচএন/ ৩০ অক্টোবর, ২০১৭)



