নরসিংদীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৯ জনের, আহত ৬

 

মো: শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীতে পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬ জন। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় মহাসড়কের সদর উপজেলার কান্দাইলে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এবং শিবপুরের কারারচরে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

কান্দাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাবুল হোসেন (৩২), রেজাউল করিম (৩৫), জোবায়ের আহম্মেদ (৩৫), আবুল খায়ের বাশার খাঁন (৩৮), ইকবাল আহমেদ (৩৬) ও মাইক্রোবাস চালক বাবুল (৩৭)। আহতরা হলেন, একই এলাকার হাফিজ উদ্দিন (৩৫) ও দেলোয়ার হোসেন (৩২)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী থেকে নারায়ণগঞ্জগামী  একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার কান্দাইল এলাকায় পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মৌলভীবাজার জেলার বিয়ানীবাজারগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি ধুমড়ে মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে মাইক্রোবাসের চালকসহ ৪ জন নিহত হয় এবং আহত ৪ জনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হাফিজ উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপর মহাসড়কের উভয় পাশে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোক ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মাধবদী থানা উপ-পরিদর্শক উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি গাড়ীর একপাশ ছিড়ে গেছে। গাড়ীর ভেতরে ৩টি লাশ ও বাহিরে একটি লাশ পড়ে আছে। গুরুতর আহতবস্থায় ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর  পথেই ২ জনের মৃত্যু হয়।

নরসিংদী ফায়ার সাভিসের উপ সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, মাইক্রোবাসের চাকা বিস্ফোরণ হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতদের সকলের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরের জামাল মার্কেটের ব্যবসায়ী। মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরণ করতে কক্সবাজার যায়। সেখান থেকে ঢাকা হয়ে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

অপরদিকে জেলার শিবপুর উপজেলার কারারচর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মদিনা জুট মিলের সামনে সকাল  সাড়ে ১০টায় একই মহাসড়কের আরো একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী দিগন্ত পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌছলে ইটাখোলা থেকে নরসিংদী ভেলানগরগামী লেগুনার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে শিবপুর উপজেলার কারারচর গ্রামের সুজন মিয়া (২৪) একজন নিহত হয়। দুর্ঘটনায় আহত অবস্থায় ৬ জনকে উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারারচর গ্রামের আরমান মিয়া (৫০) ও সৈয়দনগর গ্রামের মাসুম মিল্লাহ নামে অপর দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আরমান মিয়া স্থানীয় কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

অপর আহতদের মধ্যে ছালমা বেগম ২৫ নামে একজন জেলা হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অপর ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে নরসিংদী জেলা হাসাপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান।

ইটাখোলা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত আমরা ঘটনাস্থলে পৌছাই এবং হতাহতদের উদ্ধার করি। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুইটি আটক করা হয়েছে।

(এসএইচআর/এমআইআর/ এসএএম/ ৩০ অক্টোবর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)