দুইমাস যাবৎ মজুরি পাচ্ছেন না বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা

শাহাদাৎ হোসেন রাজু, নরসিংদী থেকে: বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিকরা ২ মাস যাবৎ  মজুরি পাচ্ছে না। ফলে মিলের প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। সেই সাথে তাদের মাঝে মিল বন্ধের আশঙ্কাও বিরাজ করছে।

মিলের উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের অবিক্রিত পাটজাত পণ্য নষ্ট হচ্ছে মিলের গোডাউনে। পণ্য বিক্রি না হওয়ায় অর্থ সংকটে পড়তে হচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষকে।

বাংলাদেশ জুট মিলের পণ্য বিক্রি করে থাকে বিজেএমসি। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি বাবদ বিজেএমসির কাছে ৯৩ কোটি টাকা পায় বাংলাদেশ জুট মিল। কিন্তু বিজেএমসি সময়মতো টাকা না দেওয়ার কারণে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি দিতে পারছেন না মিল কর্তৃপক্ষ। বেতন-ভাতাদি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে মিলের চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ও তাদেও পরিবার। মিলের শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা সপ্তাহে মাত্র ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা মজুরি পান। কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় তাদের আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। অনেকে মজুরি না পেয়ে মিলে আসছেন না। তারা বিকল্প অর্থ সংস্থানের উৎস হিসেবে বাজার-বন্দরে মুজুরি খেটে অথবা রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক জুট মিল হিসেবে সুনাম অর্জণ করেছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরি ও ২ মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দিতে পারছে না। অন্যদিকে মিলের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৬০ লাখ ও গ্যাস বিল ৭ লাখ টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া পরিশোধ না করার কারণে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দিচ্ছে। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৬ বছরে মিলের চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রফিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকাও দিতে পারছে না মিল কর্তৃপক্ষ। এ পর্যন্ত মিলে প্রফিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ জুট মিল কর্তৃপক্ষের  কাছে পাট ব্যবসায়ীরা ২২ কোটি টাকা পাওনা থাকায় পাট সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

মিলটির উৎপাদন বিভাগ থেকে জানা যায়, মিলের উৎপাদিত প্রায় ৪০ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। এসব পণ্য সময়মতো বিক্রি করতে না পারায় আর্থিক সংকটে পড়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। এ কারণে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ফলে বকেয়া মজুরির পরিমাণ বাড়ছে। নিয়মিত মজুরি দিতে না পারায় দেখা দিচ্ছে শ্রমিক অসন্তেষ।

এব্যাপারে বাংলাদেশ জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম রব্বানীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিজেএমসির অনুমতি ব্যতীত কথা বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।

(এসএইচআর/এসএএম/ ০১ নভেম্বর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)