কলকাতা-খুলনা ট্রেন চলাচল শুরু ৯ নভেম্বর
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : অবশেষে কলকাতা-খুলনার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হতে চলেছে। ৯ নভেম্বর কলকাতা থেকে সরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ট্রেন খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে।
১৬ নভেম্বর থেকে সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে এই রুটে যাত্রী–চলাচল শুরু হবে। আন্তর্জাতিক এই রুটে যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে সীমান্তরক্ষীবাহিনী।
পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে একসময় অবিভক্ত দুই বাংলার মধ্যে শিয়ালদা থেকে খুলনা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করত। নানা কারণে একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মমতা ব্যানার্জি রেলমন্ত্রী থাকাকালীন কলকাতা থেকে এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এখনও তা চলছে।
অন্যদিকে, নদিয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের দর্শনা সীমান্ত হয়ে কলকাতা–ঢাকার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন সাফল্যের সঙ্গে নিয়মিতভাবে চলাচল করছে। এই রুটে সাফল্য মেলায় দুদেশের যাত্রীদের দাবি মেনে পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নতুন করে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সেইমতো দুদেশের উদ্যোগে গত ৮ এপ্রিল এর পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়। ১৫ আগস্ট নিয়মিতভাবে ট্রেন চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। অবশেষে সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করে ৯ নভেম্বর আরও একবার ট্রায়াল রান শুরু হচ্ছে।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকাল ৭টা নাগাদ ভারতীয় রেলের পদস্থ আধিকারিক–সহ বিভিন্ন আধিকারিকদের নিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত হয়ে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে প্রায় ৫ ঘণ্টা। দুপুর ২টা নাগাদ ফের খুলনা থেকে ট্রেনটি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেবে।
১৬ নভেম্বর থেকে এই রুটে সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে ট্রেন–চলাচল শুরু করবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা–কলকাতা ট্রেন রুটের সঙ্গে মিল রেখে এই রুটের ট্রেন নামকরণ ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস-২’ রাখা হয়েছিল। ৮ এপ্রিলের পরীক্ষামূলক যাত্রায় সেই নামকরণই করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নাম বদলে নতুন রুটের ট্রেনের নামকরণ করা হয়েছে ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’।
যাত্রাপথে যাত্রীদের হয়রানি কমাতে বিমানবন্দরের মতো ট্রেন ছাড়ার শুরুতেই এই রুটের যাত্রীদের কলকাতা এবং খুলনা স্টেশনেই পাসপোর্ট, ভিসা পরীক্ষা–সহ অন্যান্য কাজকর্ম সেরে ফেলা হবে। এর পাশাপাশি, এই রুটের যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মে জিআরপির পাশাপাশি এই এক্সপ্রেস ট্রেনে দুদেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর জওয়ানেরা মোতায়েন থাকবেন বলে জানা গেছে।
(এম আর / ০৬ নভেম্বর, ২০১৭)



