এবি ব্যাংকের ৪৪৬ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার সুপারিশ

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটির মাধ্যমে দেওয়া বকেয়া ঋণের ৫৫ দশমিক ৭৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৪৬ কোটি ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা) দ্রুত উদ্ধারের সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া এই ঋণে এ দেশের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তিরও সুপারিশ করেছে কমিটি।

চারটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে ‘ব্যবসা’ এবং ‘শিল্পকারখানা’ করার জন্য লোন দেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংসদীয় কমিটি। কিন্তু লোন দেওয়ার জন্য যে ধরনের বিচার বিশ্লেষণ ও নিয়ম আছে তা মানা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক শেষে বুধবার (১৫ মার্চ) মিডিয়া সেন্টারে কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঋণসমূহের প্রস্তাবের যথাযথ বিচার বিশ্লেষণ না করা, ইক্যুইটির তুলনায় বেশি পরিমাণ ঋণ মঞ্জুরি, অপর্যাপ্ত জামানত, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে স্থানান্তর হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেছেন, ‘একটি পর্যায়ে বলা হয়েছিল যারা এই ঋণ নিয়েছিল তারা যেন ফেরত দেয়। এজন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রহিম আফরোজ ২০ মিলিয়নের মতো টাকা ফেরত দিয়েছে। বাকী টাকা এখনও আদায় হয়নি।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘Globatt ME General trading LLC-কে ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, Semat City General trading LLC, UAE-কে ২৯.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ATZ Communictions pte Ltd, Singapore-কে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, Eurocars Holdings Pte Ltd, Singgapore cj-১৪.৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে ব্যাংকের জন্য সমস্যা হচ্ছে তিনটি প্রতিষ্ঠানই বিদেশ ভিত্তিক। এজন্য টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। তবে প্রচণ্ড চাপের মুখে সবাই কিছু কিছু টাকা ফেরত দিয়েছে। রহিম আফরোজ পুরো টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘এখানে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা; যা আমাদের জন্য অনেক টাকা। এসব টাকা বিদেশ থেকে এসে হাওয়ার উপরে নেয়নি প্রতিষ্ঠানগুলো। নিশ্চয় আমাদের দেশে এসবের বেনিফিসিয়ারি রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় কেউ না কেউ জড়িত। সেই বেনিফিসিয়ারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছি।’

 

(ইউএম/ ১৫ মার্চ ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)