‘আর্থিক খাতে সচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এফআরসির মূল উদ্দেশ্য’

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) এর মূল উদ্দেশ্য নিরীক্ষা খাতে (অডিটিং) স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা।  এফআরসি যদি স্বচ্ছ হয় তবে বিনিয়োগকারী আর অডিট কোম্পানির মধ্যে দূরত্ব অনেক কমে আসবে। এফআরসির চেয়ারম্যান সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ এমন মন্তব্য করেছেন।

বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো ২০১৭ এর দ্বিতীয় দিনে ‘এফআরসি ও পুঁজিবাজার: প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

এফআরসির চেয়ারম্যান বলেন, এফআরসি বিশেষ করে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে সে প্রত্যাশা করে বিনিয়োগকারীরা। সরকারের উদ্দেশ্যও তাই।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিনিয়োগ করতে হলে আপনাদের একটি কোম্পানির লাভ-ক্ষতি, কোম্পানি ফাইন্যান্সিয়াল যে রিপোর্ট করছে তা সঠিক কী না- তা দেখা দরকার। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীরা সেটা দেখেন না। কারণ অনেক বিনিয়োগকারী এ রিপোর্টের ধার ধারে না।

সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ বলেন, এফআরসির ভালো ভাবে কাজ করতে হলে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করতে হবে। তার মতে আমাদের সবাইকেই পুঁজিবাজারের দিকে ঝুঁকতে হবে। তাই এই খাতটিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য এফআরসির ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন,  এফআরসি পরোক্ষভাবে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে যদি বিনিয়োগকারীরা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টকে জরুরি মনে করেন। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্ট সঠিকভাবে দিচ্ছেন কী না তা দেখার দায়িত্ব এফআরসির। পুঁজিবাজারে অনেক রেগুলেটরি আছে। কিন্তু এরপরও কেন জানি একটি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। কেউ যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না।

এএফসি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহবুব এইচ মজুমদার বলেন, অডিট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কীভাবে স্বচ্ছতা আনা যায় সেজন্যই মূলত এফআরসির উদ্ভব। তবে এফআরসির এই পথ চলায় অনেক চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগের উপসচিব এবং আইসিএমএবি এর সেক্রেটারি মো.আব্দুর রহমান খান বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য পুঁজিবাজার বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রে আমাদের সবার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিগত দিনগুলোতে দেখা গেছে কিছু কিছু অডিট কোম্পানির জন্য বা তাদের রিপোর্টের উপর নির্ভর করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছে। আর এজন্য অডিট কোম্পানিগুলোকে একটু গাইড করার জন্যই এফআরসির জন্ম। আমরা চাই এফআরসি একটি মডেল হয়ে থাকবে এবং এফআরসি শতভাগ পেশাদার আচরণ করবে।

আইসিএসবির সভাপতি মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, এফআরসি যদি ভালোভাবে কাজ করে তবে অনেক প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে যা বিনিয়োগকারীদের জন্যও সহায়ক হবে। আমাদের পুঁজিবাজারে দেখা যায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। আস্থা কেন কম এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে। এফআরসি যদি সহযোগিতা না করে তবে আমাদের পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব না।এজন্য প্রয়োজন এফআরসিতে দক্ষ জনশক্তি।

আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন বলেন, বিশ্বে সম্পদ সৃষ্টির একটি বড় জায়গা পুঁজিবাজার। আর এজন্য এফআরসি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা আশা করবো এফআরসিতে যে ৪ জন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আসবে তারা যথেষ্ট পরিমাণ দক্ষ হবেন। দক্ষতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞানীও হতে হবে। কেননা গাড়ি চালানোর জন্য দক্ষ নাবিকের চেয়ে দক্ষ চালকের দরকার।

কোম্পানিগুলোর অডিট তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে আসতে দীর্ঘসূত্রিতার এক প্রশ্নের জবাবে আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুমায়ন কবীর বলেন, এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে। তাছাড়া এ ক্ষেত্রে বিএসইসির কিছু আইন রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক কোম্পানির উচিত প্রান্তিক প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের কাছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া। এত করে কেন ইপিএস কমে বা বাড়ে সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা অবগত হলে কোসম্পানির স্বচ্ছতা অনেকটাই বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

(এএইচএন/এসএএম/ ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭)


Comment As:

Comment (0)