‘পুঁজিবাজারের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো নতুন প্রজন্মের বাজারের প্রতি ঝুক’
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মো.সাইফুর রহমান বলেছেন, নতুন প্রজন্ম যে ক্যাপিটাল মার্কেটের দিকে ঝুকছে, এটি সত্যিই এ বাজারের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। পুঁজিবাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের মাধ্যমে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে পারলে নিজেকে অনেক উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এমন উদ্দীপনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিন দিনব্যাপী ক্যাপিটাল মার্কেট এক্সপো-২০১৭ এর আয়োজন করেছে বিজনেস নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক।
সাইফুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনেক কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে মার্কেট উন্নয়নে বিএসইসি যে মাস্টার প্ল্যান হাতে নিয়েছিলো তা আমরা অনেকটাই গুছিয়ে আনতে পেরেছি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমদের কিছু গ্যাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে বন্ড মার্কেট এখনও অনেক পিছিয়ে। এটি নিয়ে কাজ হচ্ছে।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফ খান বলেন, ক্যাপিটাল মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কাজের প্রতি একাগ্রতা থাকা। কঠোর পরিশ্রম আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা অনেক উচ্চতায় নিতে পারে। ডিগ্রি এখানে কোনো সমস্যা নয়; থাকতে হবে উন্নত মানসিকতা। তাহলেই নতুন প্রজন্ম খুঁজে পাবে এক নতুন বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, সফলতার জন্য অবশ্যই সফলদের অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এই খাতে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সফল ব্যক্তিদের অনুসরণ করা দরকার। সুউচ্চ স্বপ্ন দেখার কোনো প্রয়োজন থাকে না যদি তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা না থাকে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেই হারে এগিয়ে যাচ্ছে; তাতে প্রতি বছর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। এর জন্য ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়ন জরুরি। যদি ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি বাজারে না তালিকাভুক্ত হয়; তবে প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না। তাই এখানে মেধাবীদের আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারের সেশন চেয়ার ছিলেন ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুসা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বন্ড মার্কেটের অবস্থাটা ইক্যুইটি মার্কেটের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। বাজারের গতিশীলতা ও স্থিতিশীলতা আনতে বন্ড মার্কেটকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইচ্ছা। এর সঙ্গে প্রচেষ্টা থাকলেই কেবল প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া বাজারে শর্ট সেল সিস্টেমস চালু করা জরুরি।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রিন ডেল্টা সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াফি এস এম খান। নতুনদের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য কি ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা দরকার, এখানে কোন খাতে কী ধরণের কাজের সুবিধা রয়েছে- সেসব বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সেমিনারে প্যানেল আলোচক আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে; তাতে এই খাতে ক্যারিয়ার গড়ার আরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে নতুনদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এ ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আমাদের মার্কেটে শেয়ার ওঠানামা অনেক বেশি দেখা যায়। যে কারণে শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে এই খাতটিকে নিরাপদ মনে করেন না। সেই জায়গাটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা এখানে আসতে পারেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি খুবই কম। আবার এর আওতা খুব বড় নয়। তবে এখানেও ক্যারিয়ার গড়ার জন্য তরুণ প্রজন্মের রয়েছে অবারিত সুযোগ। নিজেকে দক্ষ ও পরিশ্রমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
এসময় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাশেদ হাসান বলেন, কোনো কাজের জন্য চাই আগ্রহ। কঠোর পরিশ্রম আর সৃজনশীল চিন্তাশক্তি থাকলে সফল হওয়া সম্ভব।
পার্টনার অব এজ রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটিংয়ের নির্বাহী অর্থ কর্মকর্তা আলী ইমাম বলেন, আমাদের দেশে মানসম্মত গবেষণার অনেক অভাব। এ ক্ষেত্রে যারা সিএফএ কোর্স করে আসছেন তাদের দ্বারা কিছুটা শূন্যস্থান পূরণ হলেও অনেকটাই বাকি থেকে যাচ্ছে। ক্যাপিটাল মার্কেটে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সিএফএ কোর্স একটি বড় দরজা খুলে দিতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য।
(এসএএম/ ১০ ডিসেম্বর ২০১৭)



