মিতসুবিশির কিউ এক্স পাজেরো সংযোজন করবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, চট্টগ্রাম: জাপানের বিখ্যাত মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের পাজেরো কিউ এক্স মডেলের স্পোর্টস গাড়ি সংযোজন করবে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। গাড়ি সংযোজনের বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষায় সফল হওয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাপানের এ কোম্পানি।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের পাজেরো কিউ এক্স মডেলের স্পোর্টস গাড়ি সংযোজনে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে বাংলাদেশের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে।
এর আগের চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে আগস্ট মাস পর্যন্ত মিতসুবিশির সিআর-৪৫ মডেলের গাড়ির সংযোজন করে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কিউ এক্স মডেলের গাড়ি উৎপাদনের কাজ শুরু করে জাপানের কোম্পানি মিতসুবিশি। এরপর প্রায় ৭ মাস ধরে তিন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের গাড়ি সংযোজনের অনুমতি পেল প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের সরদার বলেন, গত ৭ মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ২১টি গাড়ি সংযোজন করা হয়েছে। মিতসুবিশির কারিগরি দলের ১৩ জন প্রকৌশলী এই সংযোজন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে প্রগতির কারখানায় আয়োজিত সভায় প্রগতিকে নতুন সংস্করণের গাড়ি সংযোজনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না- সে বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে মিতসুবিশি মোটরস প্রকল্পের পরিচালক ইতো, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্রধান সাইতো ও অডিট বিভাগের কর্মকর্তা উতসুকি সান উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় প্রগতিকে পাজেরো কিউ এক্স মডেলের গাড়ি সংযোজনের অনুমোদন দেয় মিতসুবিশি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বড় দুইটি দেশ মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের পাজেরো কিউ এক্স মডেলের স্পোর্টস গাড়ি সংযোজনের অনুমোদন পেতে চেষ্টা করেছিল। কিন্ত তারা এই গাড়ি উৎপাদনের ধাপ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ এতে উত্তীর্ণ হওয়ায় নিজস্ব কারখানার বাইরে গাড়ি সংযোজনের অনুমতি দিয়েছে জাপানি কোম্পানিটি।
প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের সরদার আরও বলেন, বর্তমানে আমাদের কারখানায় ৩০টি গাড়ি সংযোজনের কাজ চলছে। আরও ৫০টি গাড়ির যন্ত্রপাতি আমদানির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে প্রথম বছরে ৪০০ গাড়ি সংযোজন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। নতুন মডেলের এ গাড়িতে অটো ট্রান্সমিশনের ব্যবস্থাসহ কাঠামোতেও বেশ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
গাড়িটির বাজারজাতকরণ ও মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষের দিকে নতুন কিউ এক্স মডেলের গাড়ি বাজারে আনার চেষ্টা করছি। এ রকম সুবিধা সম্বলিত অন্য কোম্পানির গাড়িগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি টাকার বেশি; তবে প্রাথমিকভাবে এ গাড়ির মূল্য ধরা হচ্ছে ৮০ লাখ টাকা। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য কিউ এক্স মডেলের ব্যবহার করবে সরকার।
প্রগতির সংযোজন করা মিতসুবিশি ব্র্যান্ডের সিআর-৪৫ সংস্করণের গাড়ি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। গত আগস্ট থেকে এই সংস্করণের গাড়ি উৎপাদন বন্ধ করে দেয় মিতসুবিশি। এতে পাজেরো স্পোর্ট সিআর-৪৫ গাড়িটির বিক্রি চলতি অর্থবছরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রগতির কর্মকর্তারা।
এদিকে, ভারতের বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্র অ্যান্ড মাহিন্দ্র লিমিটেডের মাহিন্দ্রা স্করপিও এস-১০ এসইউভি এবং ডাবলকেবিন পিকআপ ভ্যান সংযোজনের জন্য ২০১৫ সালের ১২ মে চুক্তি করেছে প্রগতি। এছাড়া ল্যান্ডফোর্ড মডেলের গাড়ি সংযোজন করছে গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানটি।
প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড এলাকায় ১৯৬৬ সালে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আগের নাম গান্ধারা ইন্ডাস্ট্রিজ) স্থাপন করা হয়।
(এমএ/এসএএম/ ২০ মার্চ ২০১৭)



