১০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে এনবিআরের মামলা
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: একই সিরিয়াল নম্বরে একাধিক মানি রিসিপ্ট ইস্যু, প্রকৃত প্রিমিয়াম বিক্রির তথ্য গোপনসহ নানা কৌশলে ১০ কোটি টাকার বেশির ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর বা মূসক) ফাঁকি দে্ওয়ার অভিযোগ উঠেছে অগ্রণী ইন্সুরেন্স লিমিটেডের বিরুদ্ধে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি জব্দ করে। এতে ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ভ্যাট কর্মকর্তাদের অভিযানের বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন অগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব শরীফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, অভিযানকালে তারা যেসব কাগজপত্র চেয়েছেন, তার সবকিছুই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে একই সিরিয়াল নম্বরে একাধিক মানি রিসিট ইস্যু, প্রকৃত প্রিমিয়াম সেলের তথ্য গোপনের মাধ্যমে সেবা মূল্য গোপন করার অভিযোগ ছিলো।
এগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বছরে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে এসেছে। ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবার পর সম্প্রতি ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়।
কর্মকর্তারা ভ্যাট সংক্রান্ত দলিলাদি দেখতে চাইলে ভ্যাট পরিশোধের স্বপক্ষে মাসিক দাখিলপত্রের ফাইল উপস্থাপন করা হয়। তখন প্রতিমাসের মোট সংগৃহীত প্রকৃত প্রিমিয়ামের হিসাব দেখতে চাওয়া হয়। পরে তথ্যাদি কম্পিউটার সফটওয়্যার এ ধারণ করে তার ভিত্তিতে মূসক প্রদান করা হয় বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দেখান।
কম্পিউটার সফটওয়্যারের তথ্য ও দলিলাদির তথ্যে গরমিল থাকায় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি করে কাগজপত্র জব্দ করে। কম্পিউটার সফটওয়্যারের তথ্য, দলিলাদি ও খুঁজে পাওয়া শাখাভিত্তিক সংরক্ষিত প্রিমিয়াম কালেকশন বুক এর তথ্যের মধ্যে হিসাবের ব্যাপক গরমিল রয়েছে বলে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরো তথ্যের জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে প্রিমিয়াম কালেকশন ফাইলসহ বেশ কিছু বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করেন।
সূত্র আরো জানায়, জব্দকৃত দলিলাদি পর্যালোচনা করে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি ২০১১ থেকে ২০১৩, এ ৩ বছরের প্রিমিয়াম বিক্রির তথ্য প্রদান করেছে। এর বিপরীতে দাখিলকৃত রিটার্নের কপি দেখাতে পারেননি। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০১৬ এ ৩ বছরের তথ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে।
কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা দক্ষিণ) মামলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ফাঁকিকৃত ভ্যাটের পরিমাণ বাড়তে পারে। সেজন্য ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে।
ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘদিন নজরদারিতে রাখার পর অভিযান চালানো হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকার ফাঁকি পাওয়া গেছে। মামলা হয়েছে। কমিশনারেটে কিছু তথ্য দেয়া হয়েছে।
সেসব তথ্য পর্যালোচনা করলে এ ফাঁকির পরিমাণ বাড়তেও পারে বলে জানান তিনি।
(এসএএম/ ২২ মার্চ ২০১৭)



