‘সরকারী কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে’

প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টের জন্য সরকারী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: ইউনুসুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা না। সরকারী কোম্পানিগুলো ব্যবসা করতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক পরিবেশ ও গ্রোথ বৃদ্ধিতে দেশে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্টের জন্য হলেও সরকারী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে হবে। এর মাধ্যমে সরকারী কোম্পানীতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজের অভাব পূরণ হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের বিএসইসির মাল্টিপারপাস হলে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানীসমূহের শেয়ার অফলোডসংক্রান্ত দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: ইউনুসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন।

মো: ইউনুসুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ব্যাংক, পুঁজিবাজার, বীমা ও মাইক্রো ক্রেডিট নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিএসইসি ইতোমধ্যে তাদের আইনগত ভিত্তি অনেক উন্নত করেছে ভবিষ্যতে যার সুফল বিনিয়োগকারীরা ভোগ করতে পারবে। বিগত ৭-৮ বছর ধরে সরকারী কোম্পানীসমূহকে তাদের শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোড করার জন্য বাংলাদেশ সরকার অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এ উদ্যোগের খুব কমই বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা এ সর্ম্পকে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করবেন; যা সরকারের এ সংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেক ভূমিকা রাখবে।

সভাপতিত্ব বক্তব্য বিএসইসি’র চেয়ারম্যান বলেন, সরকারী মালিকানাধীন কোম্পানীসমূহ তাদের শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোড করে দীর্ঘমেয়াদী মূলধনের ব্যবস্থা করতে পারে। এর মাধ্যমে কোম্পানীসমূহের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত ও স্বচ্ছ হবে। বিনিয়োগকারী ও সরকারের কাছেও তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সরকারী কোম্পানীসমূহ এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের দায়বদ্ধতা বাড়াতে পারে এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে দীর্ঘমেয়াদী মূলধন প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পেতে পারে। এর মাধ্যমে এ ধরনের কোম্পানীসমূহ ১০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর সুবিধাও পেতে পারে। সর্বোপরি এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারী কোম্পানীতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজ এর অভাব পূরণ হবে।

কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশগ্রহন করেন।

অনান্যের মধ্যে বিএসইসির কমিশনার মো: হেলাল উদ্দিন নিজামী, আমজাদ হোসেন, মো: কামাল উদ্দিনসহ কমিশনের উধ্বর্তন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

(এসএএম/ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)


Comment As:

Comment (0)