পান্তা ভাতে ম্যাজিক
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: গ্রামবাংলার প্রতিদিনের খাবার পান্তা ভাত। শহরে শুধু পহেলা বৈশাখের দিনই বিলাসিতা করে খাওয়া হয়। কৃষক, জেলেদের রোজকার পরিশ্রমের কাজে শক্তি জোগায় সহজ পান্তা ভাত। গুণে ভরপুর এ খাবারটি তাই এত জনপ্রিয়।
সাধারণত লবণ, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ মিশিয়ে পান্তা ভাত খাওয়া হয়। মূলত পান্তা ভাত হলো ভাত সংরক্ষণের একটি পদ্ধতি। রাতের খাবারের পর বেঁচে যাওয়া ভাত পানি দিয়ে রাখলে তৈরি হয়ে যায় পান্তা।
ভাত পুরোটাই শর্করা। ভাতে পানি দিয়ে রাখলে বিভিন্ন গাজনকারী ব্যাক্টেরিয়া বা ইস্ট এই শর্করা ভেঙ্গে ইথানল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে। ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির ফলে পান্তা ভাতের অম্লত্ব বেড়ে যায় (পিএইচ কমে)। তখন পচনকারী ও অন্যান্য ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক ভাত নষ্ট করতে পারে না।
সম্প্রতি আসাম এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখেছেন যে, ১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে (১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর) ৭৩ দশমিক ৯১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে থাকে মাত্র ৩.৪ মিলিগ্রাম। এছাড়াও ১০০ গ্রাম পান্তাভাতে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৩৯ মিলিগ্রাম এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে হয় ৮৫০ মিলিগ্রাম। যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে ক্যালসিয়াম থাকে মাত্র ২১ মিলিগ্রাম। এছাড়া পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে হয় ৩০৩ মিলিগ্রাম। যেখানে সমপরিমাণ গরম ভাতে সোডিয়াম থাকে ৪৭৫ মিলিগ্রাম।
পাকস্থলীর এনজাইম বাড়ায়
পান্তা ভাতে ফারমেন্টেশনের ফলে পাকস্থলীতে উপস্থিত প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজসহ আরও কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে করে পান্তা ভাতে উপস্থিত অলিগোসাকারাইডসহ আরও কিছু জটিল শর্করা খুব সহজেই হজম হয়ে যায়।
পেট ঠাণ্ডা করে
পান্তা ভাত ভিটামিন বি-৬ এবং ভিটামিন বি-১২ এর ভাল উৎস। পান্তাভাত শর্করাসমৃদ্ধ জলীয় খাবার। গরমের দিনে শরীর ঠাণ্ডা ও সতেজ রাখে। জলীয় খাবার বলে শরীরের পানির অভাব মেটায় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে।
শরীরে শক্তি জোগায়
পান্তা ভাত খেলে শরীর হালকা এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কারণ এটি ফারমেন্টেড বা গাঁজানো খাবার। মানব দেহের জন্য উপকারী বহু ব্যাকটেরিয়া পান্তা ভাতের মধ্যে বেড়ে উঠে।
পেটের রোগ ভালো করে
পান্তাভাত খেলে পেট ব্যথা ভাল হয়, কোষ্ঠবদ্ধতা দূর হয় এবং শরীরে সজীব করে এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় থাকে।
রক্তচাপ স্বাভাবিক করে
এ ভাতে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে, কারণ এতে গরম ভাতের তুলনায় সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে।
(এম এস/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)



