পোশাক শিল্পখাতে পরিবারতন্ত্রের দাপট চলছে: সিপিডি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: দেশের পোশাক শিল্পখাতে পরিবারতন্ত্রের দাপট চলছে। এ খাতটির পরিচালনায় শতকরা ৮৯ শতাংশই পরিবারতন্ত্রের দখলে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষনা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক হোটেলে পোশাক খাতের উন্নয়ন নিয়ে করা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য জানান। মূল প্রতিবেদন পাঠ করেন সিপিডির গবেষণা শাখার পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জিম। প্রতিবেদনে পোশাক শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার, বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান, কারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদফতরের মহাপরিদর্শক শামসুজ্জামান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, পোশাক খাতে পরিচালনা পর্ষদগুলোতে পরিবারতন্ত্র ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এ খাতের ৮৯ শতাংশ বোর্ডই পরিবারতন্ত্রের। অর্থাৎ পরিচালনা বোর্ডগুলোতে অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকখাতের সামাজিকভাবে অগ্রগতি হয়েছে। ২০ শতাংশ পোশাক কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে । বিদেশি বিনিয়োগ থেমে থাকেনি। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে অগ্রগতি হয়নি।
তিনি বলেন, কারখানার মান বেড়েছে, প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে এগুলো পোশাকখাতের সামাজিক অগ্রগতি অপরদিকে শ্রমিক নিয়োগের হার কমেছে, প্রবৃদ্ধি হার তুলনামূলক কমেছে এগুলো অর্থনৈতিক অনগ্রসরতার উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, গবেষণায় প্রধান প্রধান পাঁচটি অংশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পরে আমাদের পোশাক খাতে বড় কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। সেটাকে সামনে রেখে একটি নমুনা জরিপ পরিচালনা করা। ১৯৩টি প্রতিষ্ঠান ও দুই হাজারের ওপর শ্রমিকদের নিয়ে এ নুমনা জরিপ পরিচালিত হয়েছে। উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল হচ্ছে রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ থেমে থাকেনি, নতুন নতুন পোশাক কারখানা হচ্ছে। এমনকি কারাখানা পর্যায়ে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। যেমন- ব্যক্তি মালিকানা থেকে গার্মেন্টেস লিমিটেডে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন , রানা প্লাজা উত্তর পরিস্থিতে ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কারখানা পরিবর্তন করলেও এখনো ১২ শতাংশের মতো কারখানা পুরাতন ভবনে রয়েছে। অন্যদিকে ১৬ শতাংশের মতো বিদেশি কর্মকর্তা এখাতে কাজ করছেন।
এসময় তিনি বলেন, পোশাক কারখানাগুলোতে ট্রেড ইউনিয়নের উপস্থিতি কম এবং দুর্বল। কল্যাণ সংঘ তুলনা-মূলকভাবে ক্রমন্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। ২০০৫-২০১২ সাল পর্যন্ত কর্মসংস্থান কমার হার ছিল ৪ শতাংশ। ২০১২ থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত কর্মসংস্থান কমার হার ৩ শতাংশ। রয়েছে পুরুষ-নারীদের মধ্যে মজুরি বৈষম্য । পুরুষদের গড় বেতন ৭ হাজার ২৭০ টাকা আর নারীদের গড় বেতন ৭ হাজার ৫৮ টাকা।
(এসএএম/ ০৩ মার্চ ২০১৮)



